Showing posts with label Amazing. Show all posts
Showing posts with label Amazing. Show all posts

আইনস্টাইনের চেয়েও বুদ্ধিমান

লন্ডনের কিশোর এগারো বছরের অওম আমিন বুদ্ধিমত্তার সূচক নির্ধারণকারী আইকিউ পরীক্ষায় কিংবদন্তী বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন আর স্টিফেন হকিং-এর থেকে দুই পয়েন্ট বেশি নম্বর পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে।
যারা প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন তাদের আইকিউ পরীক্ষা করে বিশ্বের বহু পুরনো সংগঠন মেনসা। মেনসার এই পরীক্ষার ফলাফল জানিয়ে আমিনকে যে চিঠি দিয়েছে তাতে তারা জানিয়েছে, অওম আমিন  এখন বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান এক শতাংশ মানুষের মধ্যে একজন। আর পাঁচটা কিশোরের মত অওম আমিনও স্টার ওয়ারস্ ছবির পোকা। কিন্তু বুদ্ধির দিক দিয়ে সে অবশ্যই আর পাঁচজন সাধারণ কিশোরের থেকে অনেক আলাদা। মেনসার পরীক্ষায় তার স্কোর ছিল ১৬২, যা পদার্থবিদ আইনস্টাইন ও হকিংয়ের স্কোরের চেয়ে দুই পয়েন্ট বেশি। তবে অওম আমিন বলেন,
আমি মোটেই বলব না এই দুইজন বিজ্ঞানীর থেকে আমার বুদ্ধি বেশি – যদিও আইকিউ পরীক্ষায় আমি তাঁদের থেকে বেশি নম্বর পেয়েছি। তাঁদের প্রতিভা অসাধারণ। তাঁরা আমার হিরো। আমি তাঁদের মত হতে চাই। – বিবিসি

ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক,শেয়ার ও কমেন্ট করে পাশে থাকুন। ঘুরে আসতে পারেন। www.facebook.fom/sobkichu24 www.free.facebook.com/sobkichu24

অ্যাপলের নতুন গাড়ি!

অ্যাপল যে গাড়ি বানাচ্ছে তা এত দিন স্রেফ গুজব বলেই উড়িয়ে দেওয়া যেত। তবে জার্মান এক পত্রিকা ১৮ এপ্রিলে এক প্রতিবেদনে লেখে, জার্মানির রাজধানী বার্লিনে গাড়ি তৈরির জন্য গোপন এক গবেষণাগার তৈরি করেছে অ্যাপল। সেখানে নিয়োগ দেওয়া জনা বিশেক কর্মী দিনরাত প্রকৌশল, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং বিপণন নিয়ে কাজ করছেন।

এদিকে গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা মোটরসের গাড়ি প্রকৌশল বিভাগের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ক্রিস পরিটকে অ্যাপলের এক বিশেষ প্রকল্পের দলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর গাড়ি তৈরিতে অভিজ্ঞ একজন অ্যাপলে গিয়ে যে স্মার্টফোন বানাবেন না তা মোটামুটি নিশ্চিত করেই বলা যায়। জার্মানির পত্রিকাটি আরও লেখে, অস্ট্রিয়ার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাগনা স্টেয়ার তৈরি করবে এই অ্যাপল কার। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ২৯টি দেশে মূলত ছোট কুপার গাড়ি তৈরি করে থাকে। আরও কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি এবং গাড়ি নির্মাতাদের জগৎ থেকে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিয়োগ দিয়েছে অ্যাপল। এ সম্পর্কে টেসলা মোটরসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলন মাস্ক মজা করে বলেছেন, ‘টেসলায় কাজ না পেলে বরং অ্যাপলে চেষ্টা করে দেখুন!’

শুধু টেসলা থেকেই যে অভিজ্ঞদের টেনে নিচ্ছে অ্যাপল, তা কিন্তু না। ফোর্ড, জেনারেল মোটরস এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ থেকেও নাকি কর্মী টেনে নিয়ে নিয়োগ দিচ্ছে অ্যাপল। এমনকি ব্যাটারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এ১২৩ সিস্টেমস থেকেও কর্মী ভাগিয়ে নিতে অ্যাপল এক ‘আক্রমণাত্মক’ কার্যক্রম চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে গাড়ি চালিয়ে যাচাই করে দেখার জন্য সেখানকার মোটর ভেহিক্যাল ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে গত বছর সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিল দ্য গার্ডিয়ান। আবার অ্যাপল ইনসাইডার জানিয়েছে, সিক্সটিএইট রিসার্চ নামের এক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চুপি চুপি গাড়ি নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে অ্যাপল। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও অ্যাপলের কর্মীদের মতো পোশাক পরে কাজ করেন বলে জানা গেছে। সেপ্টেম্বরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ২০১৯ সাল নাগাদ বাজারে আসবে অ্যাপলের গাড়ি।
সূত্র: ইয়াহু টেক
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক,শেয়ার ও কমেন্ট করে
পাশে থাকুন। ঘুরে আসতে পারেন। www.facebook.fom/sobkichu24 www.free.facebook.com/sobkichu24

বিশ্বের সবথেকে ছোট মুরগির ডিম!

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ডিম পেড়ে রেকর্ড গড়েছে ব্রিটিশ একটি মুরগি। ডিমটির দৈর্ঘ্যে ১ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। এর মালিক জর্জিয়া ক্রাউচম্যান এই কথা জানান। সম্প্রতি খামার থেকে ২০টি মুরগির ডিম সংগ্রহ করছিলেন ক্রাউচম্যান। এই সময় তিনি অস্বাভাবিক ছোট আকারের একটি ডিম দেখতে পান। তবে খামারের কোন মুরগিটি এই ডিম পেড়েছে তা শনাক্ত করতে পারেননি তিনি।
ইংল্যান্ডের সাফোক কাউন্টির বারি সেন্ট এডমন্ডসের একজন মাদক ব্যবসায়ী জর্জিয়া ক্রাউচম্যান। তিনি বলেন, 'একটি কন্টেনারের মধ্যে আমি ডিমটি পেয়েছি। তবে কোন মুরগিটি এই ডিম পেড়েছে তা জানি না।' এর আগে সবচেয়ে ছোট ডিম হিসেবে রেকর্ড গড়েছিল যেটি সেটি ছিল ১ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার লম্বা। প্রসঙ্গত, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে মুরগির সবচেয়ে ছোট ডিমের কোনো রেকর্ড নেই। এতে পাখির সবচেয়ে ছোট ডিমের রেকর্ড রয়েছে।

সুত্রঃ জী নিউজ ইন্ডিয়া।
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক,শেয়ার ও কমেন্ট করে পাশে থাকুন। ঘুরে আসতে পারেন। www.facebook.fom/sobkichu24 www.free.facebook.com/sobkichu24

নতুন প্রযুক্তির ভবিষ্যত টেলিভিশন

টেলিভিশন
প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গুলো যুগের সাথে তাল মিলিয়ে টেলিভিশনে যোগ করে চলেছেন একের পর এক নিত্য নতুন সব ফিচার সমূহ। এই চেষ্টার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করা, যেন তারা সেই নতুন সকল ফিচার গুলোতে মুগ্ধ হয়ে একটি টিভি কেনেন। এর ফলেই ত্রিমাত্রিক টেলিভিশন (3D), 4K টেলিভিশন এবং কার্ভড (বাঁকানো) টেলিভিশনের পর আসতে চলেছে আরও এক নতুন প্রযুক্তি, নামঃ কোয়ান্টাম ডট!

যদিও এই ‘কোয়ান্টাম ডট’ টেকনোলজিকে সম্পুর্ন ভাবে নতুন বলা যায়না তবুও নির্মাতারা আশা করছেন যে এই টেলিভিশন ব্যবহারকারীদের মন খুব সহজেই জয় করে নিতে সক্ষম হবে এবং খুব শীঘ্রই হয়তো আপনি টেলিভিশনে নতুন এই প্রযুক্তির টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন।
LED , Plasma এবং OLED টেলিভিশন সম্পর্কে কিছু কথা ----------
কোয়ান্টাম ডট নিয়ে আলোচনা করার পূর্বে এলইডি, প্লাজমা এবং ওএলইডি প্রযুক্তি গুলো নিয়ে অল্প কিছু কথা বলা যাক। তাহলে হয়তো, সেগুলোর সাথে কোয়ান্টাম ডটে’র পার্থক্য আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
কোয়ান্টাম ডট নামের এই প্রযুক্তি মূলত এলইডি টেলিভিশনের একটি ত্রুটিপুর্ন দিক সম্পর্কে আলোকপাত করে। অনেক ব্যবহারকারীরা আছেন যারা প্লাজমা এবং ওএলইডি ডিসপ্লে (অর্গানিক এলইডি) ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। এবং এই জনপ্রিয়তার পেছনে মূলত কাজ করে এসকল ডিসপ্লে ইউনিটের পিওর ব্লাক কালার এবং অন্যান্য রিচ কালার।
বাজারে যে সকল এলইডি টেলিভিশন সমূহ পাওয়া যায় সেগুলো মূলত এলসিডি টেলিভিশনই যাতে শুধুমাত্র এলইডি ব্যাকলাইটিং ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এক বছর আগেও এলসিডি টেলিভিশনে ফ্লুরোসেন্ট টিউব (CCFL) ব্যবহার করা হত যা সাদা রঙের আলো উৎপন্ন করতো। এবং সেই সাদা রঙই টেলিভিশনের ডিসপ্লের পিক্সেলের মধ্যে দিয়ে যাবার সময় প্রয়োজন মত যে কোন রঙে পরিবর্তিত হত। অন্যদিকে, এলইডি টেলিভিশনে ব্যবহার করা হয় এলইডি ব্যাক লাইটিং প্রযুক্তি যা তুলনামূলক ভাবে পরিমাণে কম শক্তি অপচয় করে এবং কম তাপমাত্রা উৎপন্ন করে। শুধু তাই নয়, এলইডি ব্যাক লাইটিং ব্যবহারের ফলে টেলিভিশনে জায়গাও কম লাগে এবং একারণেই বর্তমানের আধুনিক টেলিভিশন সমূহ এতটা বেশি স্লিম এবং পাওয়ার এফিসিয়েন্ট হয়ে থাকে।


এলসিডি’র তুলনায় এলইডি’র সুবিধা বেশি হলেও এটিও কিন্তু ত্রুটিমুক্ত নয়। একটু আগেও বলেছি যে এলইডি টেলিভিশনে ব্যবহার করা হয় এলইডি ব্যাক লাইটিং যা ব্যাক লাইটিং-এর জন্য নীল আলো উৎপন্ন করে। এবং এরপর সেই নীল আলোই টেলিভিশনের ডিসপ্লে ফিল্টারের মধ্যে দিয়ে যাবার সময় প্রয়োজন মাফিক রঙে পরিবর্তিত হয়ে থাকে। কিন্তু, এলসিডি প্রযুক্তির সাদা রঙের পরিবর্তে এলইডি’র এই নীল রঙ কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি করে। সাদা রঙের পরিবর্তে নীল এই রঙের জন্য ডিসপ্লে ইউনিটের কালো অংশ গুলোতে যতটুকু কালো রঙের প্রয়োজন তার থেকে প্রদর্শিত কালো রঙ গুলো কিছুটা উজ্জ্বল হয়ে থাকে এবং অন্যান্য রঙ গুলোও কিছুটা কম ভাইব্র্যান্ট হয়ে থাকে। এবং এই সমস্যার সমাধান করতেই পরবর্তি সময়ে নির্মাতারা ঠিক করেন যে কালো অংশ গুলোতে ব্যাক লাইটিং এর পরিমাণ কিছুটা ডিম করে দেয়া হবে। আপনি এলইডি টিভির বিজ্ঞাপনের স্পেসিফিকেশন লক্ষ্য করলেই ‘Local dimming’ ফিচারটি দেখতে পারবেন। এই ফিচারটির ফলে পিক্সেল গুলো নির্ভুল ভাবে ঠিক ততটাই কালো রঙ প্রদর্শন করতে পারবে যতটুকু দরকার।
সমস্যার নতুন সমাধান - কোয়ান্টাম ডট ---------------


‘কোয়ান্টাম ডট’স হচ্ছে মূলত লাইট-এমিটিং ন্যানো ক্রিস্টাল যা এক প্রকারের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘকে শোষণ (absorb) করে তা কনভার্ট করতে পারে। এটি মূলত ১৯৮২ সালের দিকে বেল ল্যাবে আবিষ্কৃত হয়েছিল।


কোয়ান্টাম ডট’স হচ্ছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্রিস্টাল যা এলইডি টেলিভিশনের ব্যাকলাইট স্তরের উপরে যোগ করা যায় অথবা আলাদা একটি স্বতন্ত্র ডিসপ্লে হিসেবেও তৈরি করা যায়। আর সেই নীলাভ আলো যা এলইডি টেলিভিশনের ব্যাক লাইটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপন্ন হয় তা পিক্সেলের মধ্যে দিয়ে বা ফিল্টারের মধ্যে দিয়ে যাবার পর ক্রিস্টালে যখন পৌছবে তখন সেই ক্রিস্টাল গুলো এই নীল আলোকে ভেঙ্গে আরও শক্তিশালী সাদা রঙের আলো উৎপন্ন করবে যার মধ্যে স্পেকট্রামের সকল রঙ বিদ্যমান থাকবে। এবং এই আলোই শেষ স্তরে এসে চমৎকার পিকচার কোয়ালিটি তৈরি করতে সক্ষম হবে যা হবে আগের চাইতে অনেক বেশি ভাইব্র্যান্ট। আপনি কোয়ান্টাম ডট প্রযুক্তি সহ তৈরি একটি এলইডি টেলিভিশনের পিকচার কোয়ালিটি একটি প্লাজমা বা ওএলইডি টেলিভিশনের পিকচার কোয়ালিটির সাথে তুলনা করে দেখতে পারেন। অনেকটা একই।
Plasma অথবা OLED: কেন নয় --------------


হোম থিয়েটার প্রেমিদের কাছে প্লাজমা টেলিভিশনের জনপ্রিয়তা হয়তো সবচাইতে বেশি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো আর প্লাজমা টেলিভিশন তৈরি করছেন না। এর পেছনে আসলে বেশ কিছু কারণ আছে, তবে মূল কারণ গুলো হচ্ছেঃ প্লাজমা টেলিভিশন আকৃতিতে কিছুটা বেঢপ, অনেক ভারী এবং অবশ্যই এটি অনেক বেশি ইলেক্ট্রিসিটি ব

অভিশপ্ত আয়না


অভিশপ্ত আয়না (ভৌতিক গল্প)




আয়নাটির দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সুপ্তি। চমৎকার ডিম্বাকৃতি আয়না, চারপাশে লাল আর কালোর অদ্ভূত নকশা করা বর্ডার। কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে আয়নার উপরে বসানো ময়ূর দুটি। ময়ূর দুটির লেজ আয়নার দুই পাশে ঝুলে রয়েছে। চোখ গুলিতে কি পাথর বসানো কে জানে, লাল রঙ এর চোখগুলো আলো না পড়লেও যেন ঝিকমিক করছে। প্রথম দৃষ্টিতেই আয়নাটির প্রেমে পড়ে গেলো সে। এরপর পুরো ঘরে এক চক্কর দিয়ে আবার সেই আয়নার সামনেই এসে দাঁড়িয়েছে। মনের কল্পনায় দেখছে, আয়নাটিকে তার রুমের ওয়ার্ডরোবের পাশের দেয়ালে কি চমৎকারই না দেখাচ্ছে। আয়নার দাম যে তার নাগালের বাইরে হবে, সে নিয়ে সুপ্তির মনে কোন সন্দেহ নেই। তার স্কলারশিপের


টাকা বেশীর ভাগই সে মনের আনন্দে উড়িয়েছে। সেটা নিয়ে এখন তার অনেক মন খারাপ হলো।
সে এসেছে তার মায়ের সাথে পুরান ঢাকার গলির মাঝে তস্য গলির তিনতলা এক বাড়ীতে। বাড়ীটি এত পুরনো যে যে কোন সময়ে ঝুর ঝুর করে ভেঙে পড়বে। সেই কোন আমলের জমিদার বাড়ি, বয়স প্রায় ৩০০ বছর।অনেক বছর বাড়িটি বন্ধ থাকার পর কে বা কারা যেন পেপারে বিজ্ঞাপন দিয়েছে যে অ্যান্টিক পুরনো আসবাবপত্র বিক্রি হবে। তার মার সখ অ্যান্টিক শো পিসের, একারনেই শুক্রবারের সকালে আরাম ছেড়ে তারা এখন এই পুরনো বাড়ীর বৈঠক খানায় দাঁড়ানো। সুপ্তি পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে, তৃতীয় বর্ষে। শুক্রবারে তাকে বেলা ১২টার আগে বিছানা থেকে তোলা কষ্টসাধ্য নয়, একেবার দুঃসাধ্য কাজ। আজকে সেই কাজটি তার আম্মু, নাসরিন বেগম ওরফে নাসু, করতে সক্ষম হয়ে আব্বুর কাছ থেকে বাজীর ৩০০০ টাকা আদায় করেছে। সেই টাকা নিয়েই নাসরিন ঢু মারতে এসেছে এই পোড়ো বাড়িতে। তার আম্মুর ইতোমধ্যে একটা পানের বাটা আর একটি ফুলদানি খুবই পছন্দ হয়েছে। এখন সে দরদাম করতে ব্যস্ত সাদা চুলের বুড়োর সাথে। সেই এই বাড়িটি দেখাশোনা করে। বাড়িটির বর্তমান মালিক জন্মের পর থেকেই আমেরিকা। একবারো দেশে আসেনি। এখন সে চায় সব কিছু বিক্রি করে দেশের সাথে সম্পর্ক একেবারেই মিটিয়ে দিতে।
এক ফাঁকে সুপ্তি বাড়ির নীচতলা পুরোটাই ঘুরে এসেছে। সবকিছুরই ঝুরঝুরে দশা। দোতলার একটি ঘর কোনমতে আস্ত আছে, যেটিতে বুড়ো চৌকিদার থাকে। তিনতলায় কেউ ওঠে না প্রায় ১০০ বছর হয়ে গেছে নাকি। নীচ তলার রুমগুলি এখনো কিছুটা আস্ত আছে বটে, কিন্তু ভ্যাপসা গন্ধ আর প্রচন্ড ধূলা। এক কালের রঙিন কাঁচ গুলো অবহেলা আর পরিচ্ছন্নতার অভাবে ধূলি ধূসরিত। ঘুরতে ঘুরতে একটা বন্ধ দরজার সামনে এসে পড়ে সুপ্তি। বিশাল কাঠের দরজা, অতীতে হয়ত চমৎকার কাঠের কাজ করা ছিল; এখন তার উপরে কয়েক পরত ধূলার আস্তরন। সুপ্তি টানাটানি করতেই ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ করে খুলে গেলো। রুমটি বেশী বড় নয়, মাঝারি আকৃতির। ভিতরে ঢুকে সুপ্তি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। চারপাশে বিশাল বিশাল সব আলমারি, আর তাতে না হলেও হাজার দশেক বই হবে। এ বাড়ির লাইব্রেরী বোধ হয়। মাকড়সার জাল সরিয়ে সরিয়ে ঢুকতে হয়, অবস্থা এতই করুণ। ঝটপট শব্দ হচ্ছে, তার মানে ইঁদুরের সাম্রাজ্য।সাথে চামচিকাও অবশ্যই আছে। ঘরের কোনে একটা লাঠি পেয়ে সেটা নিয়েই সুপ্তি এগুতে থাকে জাল সরিয়ে।একটা আলমারি টানাটানি করে খুলতে ব্যর্থ হয়। সব মনে হয় তালা দেয়া। ঘরের এক কোনে একটা টেবিল আর ইজি চেয়ার। চেয়ারের কোন দশা নেই, কি করে এখনো দাঁড়িয়ে আছে তা এক বিস্ময়। টেবিলের উপরে এখনো কিছু বই ইতঃস্তত পড়ে আছে। শত বছর আগে এই টেবিলে বসেই কেউ লিখতো, বই গুলি পড়তো – ভাবতেই সুপ্তির গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে। সবকিছুর উপর শত বছরের ধূলা। সুপ্তি ভাবলো তার মা এই রুমে এলেই সর্বনাশ। মার প্রবল ডাস্ট এলার্জি। বাসার সব ধূলা ঝাড়াঝাড়ি সুপ্তি আর তার বাবাকেই করতে হয়। সুপ্তি টেবিলের রাখা বইগুলোর উপর থেকে হাত দিয়েই ধূলা সরাতে থাকে। কালো মলাটের একটি মোটা বই, প্রথম পাতা খুলতেই ঝুর ঝুর করে সব খসে পড়লো। পাতা নেই বললেই চলে, যা আছে সব ইঁদুর আর পিঁপড়া মিলে ভোগে লাগিয়েছে। কিসের বই বোঝার কোন উপায় নেই। বইটির পাশে ছোট একটি ডায়েরী। সুপ্তি অবাক হয়ে দেখলো সবকিছুর ধূলার সাম্রাজ্যে ঢাকা হলেও ডায়েরীটি যথেষ্টই পরিস্কার। কেউ যেন নিয়মিত এর ধূলা ঝাড়ে। পাশেই কালির দোয়াত, তার মাঝে পাখির পালকের কলম। ধূলায় রঙ অস্পস্ট। সুপ্তি ডায়েরীটি তুলে নিল।
“এখানে কি চাই?” – গম্ভীর রাগী গলায় কেউ একজন প্রশ্ন করলো।
সুপ্তি ভয়ে চেঁচিয়ে উঠে হাত থেকে ডায়েরী ফেলে দিলো। আতংকে তার গলা রুদ্ধ হয়ে গেলো, কোনমতে পিছনে ফিরে দেখলো বুড়ো চৌকিদার কোন ফাঁকে চলে এসেছে। এত তন্ময় হয়ে সুপ্তি সব দেখছিলো যে সে বুঝতেই পারেনি অন্য কেউ ঘরে প্রবেশ করেছে। তোতলাতে তোতলাতে সুপ্তি বললো,
“এই তো, এমনি। এমনি আমি সব ঘুরে দেখছিলাম”।
বুড়ো চৌকিদারের চোখ রাগে ধক ধক করে জ্বলছে। চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
“কখনো এমন কোথাও যেতে হয় না যেখানে তুমি অবাঞ্চিত। এমন কোন কিছু স্পর্শ করতে হয় না যা তোমার নয়। তোমার কৌতুহল তোমাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, সে সম্পর্কে তোমার কোনধারনা নেই”।
সুপ্তির কাঁপুনি বেড়ে গেলো। আজকাল সে অনেক সাইকো থ্রীলারের ছবি দেখে তার বন্ধু চৈতীর পাল্লায় পড়ে। এই লোকটিও সাইকো নয় তো?
“আমি…… আমি দুঃখিত। বুঝতে পারিনি”। কাঁপা কন্ঠে কথা গুলো বলেই লোকটির পাশ দিয়ে দৌড় দিলো সুপ্তি। দরজা দিয়ে বের হতে হতে সে শুনতে পেলো লোকটি কারন ছাড়াই হাসছে।
বাইরে বৈঠক খানায় এসে দেখলো তার মা চার পাঁচটি প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে। যেতেই সুপ্তি ধমক খেলো।
“অ্যাই পাজি মেয়ে, কোথায় ছিলি তুই? জানিস আমি কতক্ষন ধরে খুঁজছি। বাসায় যেতে হবে না? রান্না কি ভূতে করে দিয়ে যাবে?”
সুপ্তি কথার উত্তর না দিয়ে দৌড়ে দরজা দিয়ে বাইরে বেড়িয়ে গেলো। রাস্তায় লোকজনের মাঝে না গেলে তার কাঁপুনি কমবে না। অদ্ভুত কিছু একটা আছে এই বাড়ীতে। এক মূহুর্ত সে এখানে থাকবে না।
বুড়ো চৌকিদার ততক্ষণে ফিরে এসেছে। সুপ্তির মা তার দিকে তাকিয়ে লজ্জিত ভাবে বললেন,
“মেয়েটা আমার বড় পাগলী হয়েছে। তাহলে আজ আসি?”
“জ্বী জ্বী। তবে কি আমি চায়ের সেটটি আপনার জন্য রাখবো? একেবারে খাঁটি পুরনো জিনিস কিন্তু, ১৫০ বছরের কম বয়স না”।
সুপ্তির মা দুঃখের সাথে মাথা নাড়লেন, “যে দাম বলছেন, তাতে কোন ভাবেই সম্ভব না”।
“আরেকটু না হয় কমালাম, আপনি এত জিনিস নিলেন”।
সুপ্তির মা কিছুক্ষন ভেবে বললেন, “আপনি দিন ১৫ যদি রাখতে পারেন তবে ভালো হয়, এর পর আমি এসে নিয়ে যাবো”।
“ভালো খদ্দের না পেলে রাখবো। আপনি খবর নিয়েন”।
প্রথম দুই তিন দিন সুপ্তির রাতে একা ঘুমুতে একটু ভয় ভয় করছিলো; কিন্তু তার ছোট বোন হচ্ছে পাজির পা ঝাড়া। কি ভেবে যে আব্বু তার নাম সুকন্যা রেখেছে সে আল্লাহ মালুম। একবার যদি শোনে যে সুপ্তির রাতে ঘুমুতে ভয় করছে, ফোন করে করে সবার কাছে খবর পৌঁছে দেবে। তাই সে যে লাইট জ্বালিয়ে ঘুমাচ্ছে, তা কাউকে জানতে দিলো না। দিন তিনেক পরেই সব আগের মত। অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার ধাক্কায় সুপ্তির জীবন চলতে লাগলো আগের ধারায়।
২৪শে এপ্রিল সুপ্তির জন্মদিন। ২৩শে এপ্রিল রাতে সে খুবই আনন্দ নিয়ে জেগে থাকে। প্রতিবারই জন্মদিনে রাত ১২টা এক মিনিটে সে বেশ কিছু উপহার পায়। তার মাঝে কিছু উপহার গৎবাঁধা। তার ভালো মানুষ বাবা একটা খামে শুভ জন্মদিন লিখে কিছু টাকা দেবে, যেটাতে সে বন্ধুদের খাওয়ায়। তার পাজি বোন একটা কার্ডে হ্যাপী বার্থডে লিখেই খালাস। ছোট খালা উপহার আগেই পাঠিয়ে রাখে। প্রতি বছরই সে একটা করে জামা পায়। পাশের বাসার নীনা আন্টির কেক পুরো বিল্ডিং এ হিট। নীনা আন্টি একটা কেক বানিয়ে আনে। গত বছর নীনা আন্টির ৪ বছরের ছেলে কৌশিক একটা ললিপপ দিয়েছিল। যেটা দেয়ার আগে আবার সে খানিকক্ষন খেয়েছে। এবছর কি করবে কে জানে! তবে তার আম্মুর দেয়া উপহার সবসময়ই ব্যতিক্রম। কোনবারের সাথে কোন বারের টা মিল থাকে না। এই তো দুই বছর আগে সে পেয়েছিলো রবীন্দ্র রচনাবলীর সেট, গত বছর আম্মু তার জন্য কিনে এনেছিল মুক্তার চমৎকার একটা সেট। পার্টিতে সে প্রায়ই সেটা পড়ে। এবছর কি পাবে তা নিয়ে সে খুবই উত্তেজিত। শুয়ে শুয়ে সে ঘুমের ভান করতে লাগলো। ১২টা ১ বাজার সাথে সাথে সবাই হ্যাপী বার্থডে টু সুপ্তি বলতে বলতে রুমে ঢুকে পড়লো। সুপ্তি ভান করলো যে সে একেবারে আকাশ থেকে পড়েছে। ডাইনিং রুমের টেবিলের উপরে নীনা এক্সআন্টির কেক রাখা। চারপাশে মোমবাতি সাজানো।মোবাইলে টানা ভাইব্রেশন হচ্ছে, মেসেজ আসার জন্য। আনন্দে সুপ্তির চোখে জল এলো। কেক কাটা পর্ব শেষ করেই সবাই ঘুমানোর জন্য দে ছুট। আম্মু এসে সুপ্তির কপালে চুমু দিয়ে তার উপহারটি বিছানায় রেখে গেলো। সবাই চলে গেলে পরে গভীর রাতে সুপ্তি তার উপহারগুলো খুলতে বসলো। তার বোনের কার্ডটির মাঝে এবার বান্দরের ছবি। দাঁত বের করে বান্দরটি হ্যাপী বার্থডে জানাচ্ছে।সুখের বিষয় এবার কৌশিক কোন উপহার ছাড়াই এসেছে। ছোট খালার জামাটিও মন্দ না। আব্বুর দেয়া টাকা গুলি ব্যাগে ভরে সুপ্তি আগ্রহ ভরে আম্মুর দেয়া উপহার খুললো।



উপহার খুলে সুপ্তি খানিকক্ষন হতভম্ব হয়ে বসে রইলো। এরপর আবার নতুন করে চোখে জল আসা শুরু হলো। যে আয়নাটি দেখে সে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলো ওই পোড়ো বাড়িতে, আয়নাটি তার আম্মু তার জন্য নিয়ে এসেছে। মা দের চোখে কি কিছুই এড়ায় না? সুপ্তি উঠে তার ওয়ার্ডরোবের পাশের দেয়াল থেকে ক্যালেন্ডারটি সরিয়ে আয়নাটা লাগায়। কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে সে আবার মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়ে। চারপাশের বর্ডারে কি সূক্ষ্ণ কারুকাজ। কাঠের মাঝে লাল আর কালো রঙ করা। উপরের ময়ূরের লেজ দুইটি কি দিয়ে বানানো যে এত বছর পরেও এতটুকু রঙ নষ্ট হয়নি? আর চোখ গুলি কি রুবী? সুপ্তির চেহারা তার নিজের কাছে বিশেষ সুবিধার কখনোই মনে হয় না। কিন্তু এখন সে নিজেকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলো। আয়নায় কি সুন্দরই না তাকে লাগছে। একটা লাল টিপ এনে কপালে পড়লো। রূপকথার রাজকন্যা যেন। আনন্দ দিয়ে সুপ্তি ঘুমাতে গেলো। কিন্তু ঘুম কেন যেন খুব ছাড়া ছাড়া হলো। শেষ রাতের দিকে তার ঘুমের মাঝেই মনে হতে লাগলো কেউ তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

সংগ্রহিত:

তুতেন খামেনের মৃত্যু রহস্য

প্রাচীন
মিশরের সবচেয়ে বিখ্যাত ফেরাউন তুতেনখামেন ছিলেন অজাচারের ফসল। অর্থাৎ তারা বাবা-মা ছিলেন আপন ভাই-বোন। আর মাত্র ১৯ বছর বয়সে তার মৃত্যুর প্রধান কারণ এই রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষার নামে অজাচার।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা তুতেনখামেনের মমি এবং ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বিচার করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।



এই বালক রাজার অকালমৃত্যু নিয়ে এ যাবৎকালে নানা তত্ত্ব, গল্প তৈরি হয়েছে। তবে সম্প্রতি নির্মিত একটি তথ্যচিত্রে বিতর্কটির একটি জবাব দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তুতেনখামেনের অল্প বয়সে মৃত্যুর কারণটিও সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

প্রথমে তুতেনখামেনের মমির ওপর নির্ভর করে দুই হাজার কম্পিটারাইজড সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। এতে তার বৈজ্ঞানিকভাবে নিখুঁত একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব পাওয়া গেছে।

এরপর মমি থেকে সংগৃহিত ডিএনএ টেস্ট করে তার বাবা-মাকে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অবশ্য এতে যা পাওয়া গেছে তা তার দাদা-দাদী বা নানা-নানীর বৈশিষ্ট্যও হতে পারে।

তবে তৎকালীন মিশরীয় বিশ্বাস ও সংস্কার বিবেচনা করলে তুতেনখামেন যে আপন ভাই-বোনের যৌন সম্পর্কের ফসল তা অনেকখানি নিশ্চিত হওয়া যায়।

মিশরীয়দের বিশ্বাস রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষিত হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক বিবেচনায় আসলে ঘটে উল্টোটা। পরবর্তী প্রজন্মের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না।

মমি স্ক্যান ও সিটি স্ক্যানের ফলে তুতেনখামেনের যে পূর্ণাঙ্গ অবয়ব পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, এই বালক রাজার শরীরের গঠন ছিল উঁচু মাড়ি, রমনীয় নিতম্ব এবং ভাঁজ হয়ে যাওয়া পা।

এছাড়া তার অস্বাভাবিক বড় স্তন সে তার বাবা এবং চাচাদের কাছ থেকে পেয়েছে বলেই ধারণা করা হয়। অর্থাৎ এই শারীরিক কাঠামোর অসঙ্গতি নিয়ে জন্ম নেয়ার বালক রাজা তুতেনখামেন অকালে মারা যাওয়ার অন্যতম কারণ মিশরীয়দের রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষার সংস্কার।

এর আগে বিশ্বাস করা হতো, রাজা তুতেনখামেন একটি রথ দুর্ঘটনায় নিহত হন অথবা তাকে খুন করা হয়। তবে গবেষকরা এই ধারণাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, তুতেনখামেন ১৩৩৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মাত্র ১০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহন করে। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত মাত্র নয় বছর তৎকালীন মিশর শাসন করে সে।

বংশগতি বিদ্যায় এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের মধ্যে যৌন সম্পর্কের ফলে সৃষ্ট সন্তান নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্ম নিতে পারে। এখানে বাবা-মার প্রচ্ছন্ন নেতিবাচক বৈশিষ্টগুলো সন্তানের মধ্যে প্রকট হতে পারে।

সুত্র ঃ বিশ্বের-সেরা-সত্যি-ভূতের-গল্প-ও-ইতিহাস

১৩ টি ডিম পাড়ে যে মুরগী


June 9th, 2015

সূত্র-somoyerkonthosor.com



হবিগঞ্জ: একদিনে মুরগিটি ডিম পেড়েছে ১৩টি। এমন কথা বিশ্বাসযোগ্য মনে না হলে কিন্তু ঘটনা সত্যি। মুরগিটি দেখতে মোরগের মত হলেও আসলে এটি মুরগি।


শারীরিক অবয়বে মুরগিটি সাধারণ হলেও একদিনে পর পর ১৩টি ডিম পেড়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। এমন অবাস্তব ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জে।



আলোড়ন সৃষ্টিকারী মুরগিটির মালিক হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামের সৈয়দ মাইনুল হক আরিফ। তার বাবা উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদুল হক।

মুরগি মালিক আরিফ জানান, গত বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামঝি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মুরগিটি প্রতিদিন তিনটি করে ডিম দিতে থাকে। প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছর ৫ জানুয়ারি থেকে পুনরায় একাধিক ডিম পাড়া শুরু করে। বুধবার সর্বোচ্চ ১৩টি ডিম পেড়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

এমবিএ করা আরিফ জানান, নেদারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণীবিদ্যায় পিএইচডি করছেন তার নিকটাত্মীয় সৈয়দ সায়েম উদ্দিন। মুরগিটির ছবি ও বৃত্তান্ত জানিয়ে তাকে ই-মেইল করেন তিনি।

জবাবে সায়েম উদ্দিন তাকে জানিয়েছেন, মুরগিটির জেনেটিক কোনো সমস্যা থাকতে পারে। যে কারণে ডিম ধরে রাখতে পারছে না। যেকোনো সময় মুরগিটি মারা যেতে পারেন বলে জানান তিনি।



আরিফ জানিয়েছেন, তার পোলট্রি ফার্মের জন্য গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে স্থানীয় অলিপুরের সিপি হ্যাচারি থেকে একদিন বয়সী ব্রাউন লেয়ার প্রজাতির দুই হাজার মুরগির বাচ্চা কেনা হয়। পাঁচ মাস বয়সে ডিম পাড়ার কথা থাকলেও মুরগিগুলো ছয় মাস বয়সে ডিম দিতে শুরু করে।

তিনি জানান, একদিন তিনি লক্ষ্য করলেন, তার খামারে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠা একটি মুরগি ঠিক মোরগের মতো আচরণ করছে। মাথার ঝুঁটিও মোরগের মতো। পরে মুরগিটি তিনি অন্য খাঁচায় আলাদা করে রাখেন।

গত বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মুরগিটি প্রতিদিন তিনটি করে ডিম দিতে থাকে। প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে পুনরায় একাধিক ডিম দিতে শুরু করে। মুরগিটি বুধবার সর্বোচ্চ ১৩টি ডিম পেড়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মুরগিটির ওজন ৩ কেজি ৭শ’ গ্রাম বলে জানান তিনি।

আরিফ জানান, প্রথমে আমি নিজেও বিশ্বাস করেনি। একদিন ভোরে নিজেই দূর থেকে লক্ষ্য করছিলাম, কিছুক্ষণ পর পর মুরগিটির ডিম পাড়ার দৃশ্য। এ ঘটনা স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ কয়েকজনকে দেখিয়েছি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, প্রাণীদেহে যে গ্র্যাল্ড থাকে তা থেকে অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণ হওয়ায় প্রজনন ইন্দ্রিয়ের কার্যক্রমতা বেড়ে যায়। এ কারণেই হয়তো মুরগিটি মাত্রাতিরিক্ত ডিম দিচ্ছে।

তিনি জানান, খামারি মালিক যদি মুরগিটি পরীক্ষার জন্য দেন তাহলে গবেষণাগারে পাঠিয়ে এর কারণ জানা যাবে। সরকারিভাবে বা কোনো প্রাণী গবেষক মুরগিটির ওপর গবেষণা করতে চাইলে তাতে আপত্তি নেই আরিফের।