Showing posts with label Hadith. Show all posts
Showing posts with label Hadith. Show all posts

মিসওয়াক করার ধর্মীয় এবং বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব।

মিসওয়াক করা সুন্নত। উলামায়ে কেরামের মতে, মেসওয়াকের অভ্যাস করার মধ্যে যে সকল উপকার রয়েছে তারমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,’ মৃত্যুর সময় কালেমা শাহাদাত নসীব হয়।’

হযরত আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মেসওয়াক করা থেকে উদাসীন হয়ো না; কেননা তাহাতে বহু গুণ রয়েছে। তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণগুলি হচ্ছে,
০১। এর দ্বারা আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন হয়।
০২। নামাজের আগে মেসওয়াক করলে নামাজের ফজিলত ৭৭ গুণ বৃদ্ধি করে দেয় হয়।
০৩। সচ্ছলতা বয়ে আনে।
০৪। মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় ।
০৫। দাঁতের মাড়ি শক্ত হয় ।
০৬। মাথা ব্যথা দূর হয় ।
০৭। দাঁতের পীড়া-ব্যথা দূর হয়।
০৮। ফেরেশতারা নূরানী চেহারায় মুছাফাহা (হ্যান্ডশেক) করে।
০৯। দাঁতের শুভ্রতা ও উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয়।
১০। মস্তিস্ক ঠান্ডা থাকে।
১১। দাঁত শক্ত থাকে।
১২। দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়।
১৩। পাকস্থলী কর্মক্ষম থাকে।
১৪। শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
১৫। বাকশক্তি সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়।
১৬। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।
১৭। অন্তর পরিচ্ছন্ন হয়।
১৮। নেকী বৃদ্ধি পায়।
১৯। মেসওয়াককারী ব্যক্তি বিজলীর ন্যায় পুলছিরাত পার হয়ে যাবে।
২০। শরীর ইবাদতের উপযোগী হয়।
২১। শরীরের অতীমাত্রার তাপ দূর হয়ে যায়।
২২। সর্বপ্রকার ব্যাথা দূর হয়।
২৩। পিঠ মজবুত হয়।
২৪। জ্বর থাকলে তা কমে যায়।
২৫। পাকস্থলি ঠিক থাকে।
২৬। দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়।
২৭। কন্ঠ সুন্দর হয়।
২৮। জিহ্বা তেজস্বী হয়।
২৯। শরীরের অতিরিক্ত আদ্রতা দূর হয়।
৩০। জান্নাতের দরজা সমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
৩১। স্ত্রী স্বমীর প্রতি, স্বমী স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্ট থাকে।
৩২। সন্তানাদী নেক ও শালীন হয়।
৩৩। ফেরেস্তাগণ মেসওয়াককারীকে দেখে বলতে থাকে ঐ ব্যক্তি নবীগণের অনুসারী।
৩৪। জাহান্নামের দরজা সমূহ তার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
৩৫। মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা এমন আকৃতিতে আসে যেমন আকৃতিতে নবীগনের কাছে আসতেন।
৩৬। আল্লামা জালাল উদ্দিন সুয়ূতি (রাহঃ) শরহুচ্ছুদুর নামক কিতাবে উল্যে­খ করেছেন। মেসওয়াক করার বরকতে মৃত্যুর সময় আত্মা সহজে বের হয়। এর প্রমাণ হলো, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম মুমূর্ষ অবস্থায় মেসওয়াক.করেছিলেন।
৩৭। ভাষা সুন্দর হয়।
৩৮। মৃত্যুর সময় কালিমায়ে শাহাদাত নছীব হয়।
৩৯। চুলের গোড়া শক্ত হয়।
৪০। মুখের জড়তা, তোতলামী, বাকরুদ্ধতা দূর হয়।
৪১। যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৪২। হযরত আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, মেসওয়াক ধীশক্তি বাড়ায়।
৪৩। কাশি দূর করে।
৪৪। যার মাথায় বা শরীরে পশম নেই মেসওয়াক করার দ্বারা তার শরীরে ও মাথায় চুল গজায়।
৪৫। শরীরের রং উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় হয়।
৪৬। শয়তানের ওয়াছওয়াছা দূর হয়।
৪৭। সহবাসে অধিক শক্তি লাভ হয়।
৪৮। চেহারা সুন্দর হয়।
৪৯। নিয়মিত দাঁতের হলুদ বর্ণ দূর করে, দাঁত হয় ধবধবে সাদা, উজ্জ্বল।
৫০। চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে।
৫১। জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
ইমাম তিরমিজি ও ইমাম হাকেম বলেছেন, মেসওয়াক করার সময় একেবারে প্রথম বারের লালা গিলে ফেলবে। কেননা এতে কুষ্ঠরোগ থেকে বাঁচা যায়। এবং মৃত্যু ছাড়া সকল রোগ থেকেও বাঁচা যায়। তবে প্রথম বারের পর আর গিলবে না। কেননা এতে স্মৃতিশক্তি কমে যায়।

রাসুল(সা:) এর বাণি আজ প্রমাণ পেয়েছে বিজ্ঞানিরা।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন:"পুরুষের প্যান্ট/ কাপড় টাখনুর উপর পরতে অন্যথায় তা জাহান্নামে যাবে। (সহিহ বুখারিঃ৫৩৭১)

বিজ্ঞান বলে: পুরুষের টাখনুর ভিতর প্রচুর পরিমানে সেক্সুয়াল হরমোন থাকে এবং তার আলো বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই কেউ যদি তা খোলা না রেখে ঢেকে রাখে তাহলে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।

মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন: " ভ্রুপ্লাগকারীর উপর আল্লাহর লানত (সহিহ বুখারীঃ৫৫১৫)
বিজ্ঞান বলে: ভ্রু হল চোখের হিফাজতের জন্য। ভ্রুতে এমন কিছু লোম থাকে যদি তা কাটা পড়ে যায় তাহলে ভ্রুপ্লাগকারী পাগল অথবা মৃত্যুবরন করতে পারে।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:" নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়া হারাম (সহিহ বুখারিঃ ৬১২৪)
বিজ্ঞান বলে: ধুমপানের কারনে ফুস্ফুসের ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস ও হৃদরোগ হয়ে মানুষ মারা যায়। ধুম্পান করলে ঠোট, দাতের মাড়ি, আঙ্গুল কালো হয়ে যায়। যৌনশক্তি ও ক্ষুধা কমে যায় এমনকি স্মৃতি শক্তি ও কমে যায়।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন্: পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম। (মুসলিমঃ১৬৫৫)
বিজ্ঞান বলে: স্বর্ণ যেহেতু যৌগ পদার্থ তাই তা স্ক্রীনের সাথে মিশে ব্লাডের মাধ্যমে ব্রেনে চলে যায়। আর তার পরিমান যদি ২.৩ হয় তাহলে মানুষ তার আগের
স্মৃতি সব হারিয়ে ফেলবে।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: ঘুমানোর সময় আলো নিভিয়ে এবং ডান কাত হয়ে ঘুমাতে। -( সহিহ বুখারিঃ ৩২৮০)
বিজ্ঞান বলে: ডান কাত হয়ে ঘুমালে হার্ট ভালো করে পামপ করে আর লাইট না নিভিয়ে ঘুমালে ব্রেনের এনাটমি রস শরিরে প্রবেশ করতে পারে না যার ফলে ক্যান্সার হওয়ার খুব সম্ভবনা থাকে।
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: " তোমরা গোফ ছেটে ফেল এবং দাড়ি রাখ (সহিহ মুসলিমঃ ৪৯৩,৪৯৪)
বিজ্ঞান বলে: দাড়ি না রাখলে স্ক্রিন ক্যান্সার, ফুস্ফুসের ইনফেকশন এবং ৪০ এর আগে যৌবন হারানোর সম্ভবনা থাকে।
আল্লাহ(সুবনাহু তায়ালা) বলেন্,
"আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং ধ্বংসের পথ। ( বনি- ইসরাঈলঃ ৩২)এবং নেশাগ্রস্থ শয়তানের কাজ ( মাইদাহঃ৯০)_
বিজ্ঞান বলে: পর্নগ্রাফি , অশ্লিল সম্পর্ক সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য নেশা । যদি কেউ এসব নেশজাত দ্রব্যে জড়িয়ে পড়ে তাহলে ব্রেনের ফরেন্টাল এরিয়ার আমাদের পরিচালনা করার ইনটেলুক্টুয়াল সেলগুলো থরথর করে কাপতে থাকে এবং অস্থির হয়ে যায়। যার ফলে সে নেশাগ্রস্থ হয়ে মাতাল-অসুস্থের মত জীবন পরিচালনা করে এবং তা তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
আল্লাহ বলেন্: আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়। (আরাফঃ২০৪) বিজ্ঞান বলে, কুরআনের সাউন্ড
ওয়েব শরিরের সেলগুলোকে সক্রিয় করে, অসুস্থতা আরোগ্য করে বিশেষ করে হার্ট এবং
ক্যান্সার রোগিদের। আর ব্রেনকে এমনভাবে চার্জ করে যেমনভাবে ফিউজ হওয়া ব্যাটারিকে সচল করে।

আসমানের সব ফেরেশতারা যে দুটি আমলের কারণে হযরত আবু যর গিফারী (রা:) কে চিনতেন

একদিন হযরত জিবরাইল আ: বিশ্বনবীকে কে বললেন, ঐ যে চাদর গায়ে দেওয়া আপনার সাহাবী, উনাকে আমি চিনি।বিশ্বনবী বললেন, তুমি কিভাবে উনাকে চিন? হযরত জিবরাইল আ: বললেন, শুধু আমি নই, আসমানের সব ফেরেশতারা উনাকে চিনে। বিশ্বনবী জিজ্ঞাসা করলেন কেন আসমানের সব ফেরেশতারা হযরত আবু যর গিফারীকে চিনে? তখন জিবরাইল আ: বললেন, উনার দুইটি আমলের কারণে আসমানের সব ফেরেশতারা উনাকে চিনে।
১. “লিসসিগারীহি আলা নাফসিহি” অর্থ নিজেরে নিজে খুব ছোট মনে করে।
২. “লিকাসরাতি তিলাওয়াতে সুরা ইখলাস” অর্থ বেশী বেশী সুরা ইখলাস পড়ে।
আমরা এই দুটি আমল বেশী বেশী করার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

হাদীস পরিচিতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিভাষা!

হাদীস এর সঙ্গা:
হাদীস এর শাব্দিক অর্থ: উক্তি, নতুন।
ইসলামের পরিভাষায়: হযরত রাসূল স. এর সকল কথা, কাজ, অনুমোদন এবং তাঁর যাবতীয় গুণবলীর বিবরণকে হাদীস বলে ।
সনদ: রাসূলুল্লাহ স. থেকে শুরু করে সর্বশেষ হাদীস বর্ণনাকারী পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতাকে সনদ বলে।
মাতনঃ হাদীসের মূল শব্দাবলী ও বাক্যকে মাতন বলে ।
মুহাদ্দীসঃ যিনি হাদীস চর্চা (বর্ণনা ও গবেষণা) করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ, মতন ও হাদীস বর্ণনাকারীর সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাকে মুহাদ্দীস বলে ।
সুন্নাহ: সুন্নাহ শব্দের অর্থ হল, কর্মনীতি ও পদ্ধতি। হাদীস এর অপর নাম সুন্নাহ হলেও উভয়ের মাঝে সামান্য পার্থক্য বিদ্যমান।
হাদীস ও সুন্নাহ এর মাঝে পার্থক্য: সুন্নাহ হল রাসূল স. এর কর্মনীতি আর হাদীস বলতে, রাসূল স. এর কর্ম ছাড়াও তাঁর কথা, অনুমোদন ও গুণাবলীকে বুঝায়।
হাদীস এর প্রকারভেদ:
সামগ্রিক বিবেচনায় হাদীসকে প্রথমত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
সহীহ্ হাদীসঃ যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উদ্ধৃত প্রত্যেক বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত, প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী এবং হাদীসটি সকল ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে মুক্ত, তাকে সহীহ হাদীস বলে ।
হাসান হাদীসঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারীর স্মৃতি শক্তি কিছুটা দুর্বল বলে প্রমাণিত তার বর্ণিত হাদীসকে হাসান হাদীস বলে ।
যায়ীফ হাদীসঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারী কোন হাসান বর্ণনাকারীর গুণ সম্পন্ন নয় তার বর্ণিত হাদীসকে যায়ীফ হাদীস বলে ।
বর্ণনাকারী হিসেবে হাদীস ৩ প্রকার।
১. মারফু হাদীসঃ যে হাদীসের বর্ণনা পরাম্পরা রসূল স. থেকে হাদীস গ্রন্থ সংকলন কারী পর্যন্ত সুরক্ষিত আছে এবং মাঝখান দিয়ে কোন বর্ণনাকারীর নাম বাদ যায়নি তাকে মারফু হাদীস বলে ।
২. মাওকুফ হাদীসঃ যে হাদীসের বর্ণনা সূত্র সাহাবী রা. পর্যন্তু পৌছে হাদীসে মওকুফ বলে।
৩. মাকতু হাদীসঃ যে সকল হাদীসের বর্ণনা পরাম্পরা কোন তাবীঈ পর্যন্তু পৌছে তাকে হাদীসে মাকতু বলে ।
বর্ণনা কারীর সংখ্যা হিসেবে হাদীসকে নিম্নোক্ত ভাগে বিন্যাস করা হয়েছে:
মুতাওয়াতির হাদীসঃ যে সব হাদীসের সনদে বর্ণনাকারীর সংখ্যা এত অধিক যে তাদের সম্মিলিতভাবে মিথ্যার উপর ঐক্যবদ্ধ হাওয়া অসম্ভব, আর এই সংখ্যাধিক্য যদি সর্বস্তরে থাকে তবে তাকে মুতওয়াতির হাদীস বলে।
আহাদ হাদীসঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারীর সংখ্যা মুতওয়াতিরের সংখ্যা পর্যন্ত পৌছায়নি তাদের আহাদ হাদীস বলে ।
মাশহুর হাদীসঃ যে সব হাদীসের বর্ণনাকারী তিন বা তিনের অধিক হবে কিন্তু মুতওয়াতির পর্যন্তু পৌছাবেনা,এমন হাদীসকে মাশহুর হাদীস বলে ।
আযীয হাদীসঃ যে সহীহ হাদীস প্রতিস্তরে কমপক্ষে দুজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন তাকে আযীয হাদীস বলে ।
গরীব হাদীসঃ যে সহীহ হাদীসের কোন স্তরে মাত্র একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন তাকে গরীব হাদীস বলে।
শায হাদীসঃ যে হাদীস কোন বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী একাকী বর্ণনা করেছেন এবং তার সমর্থনে অন্য কোন হাদীস পাওয়া যায়না তাকে শায হাদীস বলে ।
এ ছাড়াও হাদীসের বিভিন্ন দিকে লক্ষ রেখে হাদীসের প্রকারভেদের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পরিভাষাগুলো ব্যবহার করেছেন। হাদীস বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করার ক্ষেত্রে এ সব পরিভাষা সবিশেষ জানা থাকা প্রয়োজন হয়।
১. মুত্তাসিল হাদীসঃ যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা উপর ধেকে নীচ পর্যন্তু পূর্ণরূপে রক্ষিত রয়েছে এবং কোন স্তরেই রাবীর নাম বাদ পরেনি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে ।
২. মুনকাতে হাদীসঃ যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়নি, মাঝখানের কোন এক স্তরের কোন বর্ণনাকারীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতে হাদীস বলে ।
৩. মুরছাল হাদীসঃ সনদের মদ্ধে তাবীঈ এর পর কোন বর্ণনা কারীর নাম বাদ পরলে তাকে মুরছার হাদীস বলে ।
৪. মু‘দাল হাদীসঃ যে হাদীসের সনদের মধ্য ধেকে পর্যায়ক্রমে দুই জন বর্ণনাকারীর নাম বাদ পরেছে তাকে মু,দাল হাদীস বলে ।
৫. মুদাল্লাছ হাদীসঃ যে সব হাদীসে রাবী উদ্ধতন রাবীর সন্দেহ মুক্ত শব্দ প্রয়োগে উল্লেখ করেছেন, তাকে মুদাল্লাছ হাদীস বলে ।
৬. মুআল্লাল হাদীসঃ যে হাদীসের সনদে বিশ্বস্ততার বিপরীত কার্যাবলী গোপনভাবে নিহিত থাকে ,তাকে মুআল্লাল হাদীস বলে ।
৭. মুআল্লাক হাদীসঃ যে হাদীসে সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পরেছে ,তাকে মুআল্লাক হাদীস বলে ।
৮. মুযতারিব হাদীসঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারী মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকার এলোমেলো করে বর্ণনা করেছেন ,তাকে মুযতারিব হাদীস বলে ।
৯. মুদরাজ হাদীসঃ যে হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী তার নিজের বা কোন সাহাবী বা তাবিঈর উক্তি সংযোজন করেছেন তাকে মুদরাজ হাদীস বলে ।
১০. মুসনাদ হাদীসঃ যে মারফু হাদীসেব সনদ সম্পুর্ণরূপে মুত্তাসিল তাকে মুসনাদ হাদীস বলে ।
১১. মুনকার হাদীসঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারী দুর্বল ( হাদীস বর্ণনা করার যাবতীয় গুণাবলী যার মাঝে পাওয়া যায়নি) এবং তার বর্ণিত হাদীস যদি অপর দূর্বল হাদীস বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদীসের পরিপন্থি হয়, তবে তাকে মুনকার হাদীস বলে ।
১২. মাতরুক হাদীসঃ হাদীসের বর্ণনাকারী যদি হাদীসের ব্যাপারে মিথ্যা প্রমাণিত না হয়ে কথায় মিথ্যা প্রমাণিত হয় ,তবে তার বর্ণিত হাদীসকে মাতরুক হাদীস বলে ।
১৩. মাওযু হাদীসঃ বর্ণনাকারী যদি সমালোচিত ব্যাক্তি হন আর যদি তিনি হাদীস বর্ণনায় মিথ্যাবাদী হন তবে তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযু বা বানানো হাদীস বলে ।
১৪. মুরহাম হাদীসঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারীর সঠিক পরিচয় পাওয়া যায় না যার ভিত্তিতে তার দোষ গুণ বিচার করা যেতে পারে এ রূপ বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদিসকে মুরহাম হাদীস বলে ।
১৫. মারফু হাদীসঃ কোন দূর্বল বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদীস যদি অপর কোন দূর্বল বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হয় তবে অপেক্ষাকৃত কম দূর্বল বর্ণনাকারীর হাদীসকে মারফু হাদীস বলে ।
১৬. মুতাবি হাদীসঃ এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি আপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবির হাদীসকে প্রথম রাবির হাদিসের মুতাবি বলে ।
হাদীস সংক্রান্ত আরো কিছু পরিভাষা:
১. মুত্তাফাকুন আলায়হিঃ যে হাদীস ইমাম বুখারী র. ও ইমাম মুসলিম র. স্ব স্ব গ্রন্থে সংকলন করেছেন। এরূপ হাদীসকে মুত্তাফাকুন আলায়হি বলে ।
২. আদালাতঃ বর্ণনাকারী মুসলিম, প্রাপ্ত বয়স্ক, জ্ঞানী, ফিসকের উপায় উপকরণ থেকে মুক্ত এবং মানবতা ও শিষ্টাচার বিরোধী কর্মকান্ড থেকে দুরে থাকাকে আদালাত বলে ।
৩. যাবতঃ কোন হাদীস বর্ণনাকারীর নিকট থেকে শ্রুত বিষয়কে জড়তা এবং বিনষ্টের হাত থেকে এমনভাবে সংরক্ষণ করা যেন তা যথাযথ ভাবে বর্ণনা করা সম্ভব হয় । এই গুণাবলীকে যাবত গুণ বলে ।
৪. ছিকাহ সাবিতঃ যে বর্ণনাকারীর মধ্যে আদালাত ও যাবত পূর্ণ ভাবে বিদ্যমান থাকে তাকে ছিকাহ সাবিত বলে।
৫. শায়খঃ হাদীসের শিক্ষাদানকারী বর্ণনাকারীকে শায়খ বলে ।
৬. শায়খাইনঃ সম্মানিত মুহাদ্দিসদের পরিভাষায় ইমাম বুখারী র. ও মুসলিম র. কে শায়খাইন বলে ।
৭. হাফিজঃ যিনি হাদীসের সনদ ও মাতনের সমস্ত বৃত্তান্ত সহ এক লাক হাদীস মুথস্ত করেছেন তাকে হাফিজ বলে ।
৮. হুজ্জাতঃ যিনি তিন লাখ হাদীস মুখস্থ বা আয়ত্ব করেছেন তাকে হুজ্জাত বলে ।
৯. হাকিমঃ যিনি সমস্ত হাদীস সনদ মাতন সহ মুখস্ত করেছেন তাকে হাকিম বলে ।
১০. রিজালঃ হাদীসের বর্ণনাকারীর সমুষ্টিকে রিজাল বলে ।
১১. রেওয়ায়েতঃ হাদীস বর্ণনা করাকে রেওয়ায়েত বলে ।
১২. সিহাহ সিত্তাহঃ হাদীস শাস্ত্রের প্রধান ছয়টি বিশুদ্ধ হাদীস সংকলনের সমষ্টিকে সিহাহ সিত্তাহ বলে ।
১৩. হাদীসে কুদসীঃ যে হাদীসের ভাব ও অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে আর ভাষা রাসূল স. এর পক্ষ থেকে। এসব হাদীসকে হাদীসে কুদসী বলে।
১৪. সহীহাইনঃ বুখারী ও মুসলিম শরীফকে একসাথে সহীহাইন বলে ।
১৫. রাবীঃ হাদীস বর্ণনাকারীদের বলা হয় রাবী ।
১৬. সিকাহ রাবীঃ যে হাদীস বর্ণনাকারীর মাঝে আদালাত ও যাবত গুণাবলী পূর্ণ মাত্রায় আছে তাকে সিকাহ রাবী বলে।
১৭. আছারঃ সাহাবায়ে কেরামদের কথা ও কাজকে আছার বলে।
উল্লেখ্য: উল্লেখিত এ সব পরিভাষার মধ্যে এমন অনেক শব্দ রয়েছে যেসব শব্দ অন্যত্র ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। হাদীস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে কেবল এমন অর্থ প্রকাশ করে থাকে। যেমন, হাফিজ এর অর্থ এখানে এক রকম হলেও অন্যত্র এর ভিন্ন সকলের জানা।

ইখলাসের সহিত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদাত-আ’মাল না করার পরিণতি


হযরত আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন তিনি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  কে বলতে শুনেছেন-

কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এমন এক ব্যক্তির ব্যপারে ফয়সালা হবে যে শহীদ হয়েছিল। তাকে আনা হবে এবং তাকে যেসব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল তা পেশ করা হবে। সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, “আমি যে সমস্ত নিয়ামত তোমাকে দিয়েছিলাম, তার বিনিময়ে তুমি কি কাজ করেছ?” সে বলবে, আমি আপনার পথে লড়াই করে শহীদ হয়েছি। তিনি বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এজন্য লড়াই করেছ যে, লোকেরা তোমাকে বীর বাহাদুর বলবে! আর তা বলাও হয়েছে। অতঃপর তার সম্বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
অতঃপর আরেক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, সে ইলম অর্জন করেছে, তা লোকদের শিক্ষা দিয়েছে আর কুরআন পাঠ করেছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে দেওয়া সুযোগ সুবিধা গুলোও তার সামনে তুলে ধরা হবে। সে তা দেখে চিনতে পারবে। তুমি তোমার নিয়ামতের কি সদ্ব্যাবহার করেছ? সে বলবে আমি ইলম অর্জন করেছি, লোকদের তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা কথা বলছ। বরং তুমি এই উদ্দেশ্যে বিদ্যা অর্জন করেছিলে যে, লোকেরা তোমাকে আলেম বা বিদ্বান বলবে, এবং কুরআন এই জন্য পাঠ করেছিলে যে, তোমাকে ক্বারী বলা হবে। আর তা বলাও হয়েছে। অতঃপর তার সম্বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।


অতঃপর আরেক ব্যক্তিকে আনা হবে, তাকে আল্লাহ অজস্র ধন দৌলত দান করেছেন এবং নানা প্রকারের ধন স¤পদ দিয়েছেন। তাকে দেওয়া সুযোগ সুবিধা গুলোও তার সামনে তুলে ধরা হবে। সে তা দেখে চিনতে পারবে। আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, তোমার এ স¤পদ দ্বারা তুমি কি কাজ করেছ? সে বলবে, যেখানে ব্যায় করলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন এমন কোন খাত আমি বাদ দেইনি বরং সেখানেই খরচ করেছি আপনার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। মহান আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এই জন্য দান করেছ যে, লোকেরা তোমাকে দাতা বলবে। আর তা বলাও হয়েছে। অতঃপর তার সম্বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সহীহ মুসলিম: ৪৭৭১ ইফাবা)

আসুন দেখি কিছু জাল হাদীস (খন্ড- ০১)

প্রিয় বন্ধুগণ, আমরা জানি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি হাদীস এক একটি আইন, একটি সংবিধান ও একটি নীতি। যার সূত্র ধরে যুগে যুগে মানব জাতি তাদের করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করবে। এর মাধ্যমে মানবতা তাদের জীবন চলার দিক নির্দেশনা খুঁজে নিবে। তাই যে কোন হাদীস গ্রহণ করার আগে তা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হওয়া অপরিহার্য। যার কারণে যুগে যুগে মুহাদ্দেসীনগণ হাদীসের বিশুদ্ধতা অনুসন্ধানের নিমিত্তে হাদীসের বর্ণনাকারী, বর্ণনা সূত্র এবং হাদীসের মূল বক্তব্যের মাঝে কোন রূপ সংযোজন-বিয়োজন কিম্বা পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে কি না তা অতি সূক্ষ্ম ভাবে চুল চেরা বিশ্লেষণ করে হাদীসটির প্রতি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, এটি আদৌ হাদীস কি না অথবা তা সহীহ না জঈফ। এটি অত্যন্ত জটির একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু আল্লাহর সাহায্যে তারা এ কাজটি অভূতপূর্ব সাফল্যের সাথে  সম্পন্ন করে গেছেন। সুতরাং কেউ ইচ্ছা করলেই কোন কথাকে হাদীস বলে চালিয়ে দিতে পারবে না।

আমরা দেখব, আমাদের সমাজে অনেক কথা হাদীস হিসেবে প্রচলিত কিন্তু বাস্তবে সেগুলো হাদীস নয় অন্য কথায় সেগুলো জাল হাদীস। এ সম্পর্কে মুসলমান ভাইদেরকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে এখানে কতিপয় জাল ও জঈফ হাদীস সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। আসুন, আমরা সেগুলো দেখি এবং জানার চেষ্টা করি।
১) “দ্বীন (ধর্ম)  হচ্ছে বিবেক, যার দ্বীন নেই তার কোন বিবেক নেই।” 
হাদীসটি বাতিল
সূত্রঃ “ আল-কুনা ”  এবং  “ আল-কুনা ওয়াল  আসমা ”  গ্রন্থে আবূ মালেক বিশর ইবনু গালিব সূত্রে যুহরী হতে বর্ণিত।
বাতিল বলেছেনঃ ইমাম নাসাঈ (রহঃ) , হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) ও আল্লামা আলবানী (রহঃ) ।
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ)  বলেনঃ “বিবেক সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদীস মিথ্যা।” ( আল-মানার; পৃঃ ২৫ )
২) “পুরুষদের ইচ্ছা ( মনোবল )  পর্বতমালাকে স্থানচ্যূত করতে পারে।”
এটি হাদীস নয়।
বাতিল বলেছেনঃ ইসমাঈল আজলুনী (রহঃ) এর মন্তব্য–“এটি যে হাদীস তা সম্পর্কে অবহিত হতে পারি নি।” (কাশফুল খাফা)।  আল্লামা আলবানী (রহঃ) ও হাদীসটিকে বাতিল বলে আখ্যায়িত করেছেন ।
৩) “মসজিদের মধ্যে কথোপকথন পূণ্যগুলোকে খেয়ে ফেলে যেমনভাবে চতুষ্পদ জন্তুগুলো ঘাস খেয়ে ফেলে।”
হাদীসটি ভিত্তিহীন।
সূত্রঃ “ ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন” (১/১৩৬)
বাতিল বলেছেনঃ হাফিয ইরাকী (রহঃ) , হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ), আব্দুল ওয়াহাব সুবকী (রহঃ) , আল্লামা আলবানী (রহঃ)
৪) “দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।”
হাদীসটি জাল।
জাল বলেছেনঃ ইমাম সাগানী (রহঃ)  ও অন্যান্য ইমামগণ ।
৫) “যে ব্যক্তি নিজেকে চিনেছে , সে তার প্রভুকে চিনতে সক্ষম হয়েছে।”
হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।
বাতিল বলেছেনঃ  ইমাম নববী (রহঃ), ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) হাফিয সাখাবী (রহঃ), ইমাম সূয়ুতী (রহঃ), শাইখ আল-কারী (রহঃ)।
ফিরোযাবাদী (রহঃ) বলেনঃ  যদিও অধিকাংশ লোক এটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  এর হাদীস বলে চালাচ্ছেন, তবুও এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  এর হাদীসের অন্তর্ভুক্ত নয়। এর ভিত্তিই সহীহ নয়। এটি ইসরাইলীদের বর্ণনায় বর্ণিত ।
৬) “নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ জুম’আর দিবসে পাগড়ী ধারীদের প্রতি দয়া করেন।
হাদীসটি জাল
সূত্রঃ “আল-মু’জামাল কাবীর” এবং “আল-হিলইয়াহ” (৫/১৮৯-১৯০)  গ্রন্থে  আলা ইবনু আমর হানাফী সূত্রে আইউব ইবনু মুদরেক হতে বর্ণিত।
জাল বলেছেনঃ ইমাম ইবনুল জাওযী (রহঃ), হাফিয ইবনে হাজার (রহঃ), ইমাম উকাইলী (রহঃ) , ইমাম ইবনু আদী (রহঃ), ইমাম আল-আলবানী (রহঃ) ।
৭) “আমি আরবী ভাষী, কুরআন আরবী ভাষায় এবং জান্নাতীদের ভাষা আরবী।”
হাদীসটি জাল।
সূত্রঃ “ আল- মু’জামুল আওসাত”।  (২/২৮৫,১/ ৯৩০১ )।
হাদীসের রাবীর (আব্দুল আযীয) সমালোচনা করেছেনঃ  ইমাম বুখারী (রহঃ), ইমাম হায়সামী (রহঃ), ইমাম সূয়ুতী (রহঃ), হাফিয ইরাকী (রহঃ), ইমাম ইবনু মাঈন (রহঃ), ইমাম ইবনু আররাক (রহঃ) , ইমাম ইবনু আদী (রহঃ), আল্লামা আল-আলবানী (রহঃ) ।
৮) “পাগড়ীসহ সালাত পড়া দশ হাজার ভাল কর্মের সমতুল্য।”
হাদীসটি জাল।
সূত্রঃ “যায়লুল আহাদীসিল মাওযূ’ আহ” (পৃঃ ১১১ )  গ্রন্থে আবান নামক এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত।
জাল বলেছেনঃ  ইমাম সাখাবী (রহঃ), হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ), ইমাম মানূফী (রহঃ), শাইখ আল- কারী (রহঃ) ।
ইমাম সুয়ূতী (রহঃ ) বর্ণনাকারী আবান সম্পর্কে বলেনঃ আবান মিথ্যার দোষে দোষী। ইমাম ইবনুল আররাক (রহঃ) “তানযীহুশ শরীয়াহ” (২/২৫৭) গ্রন্থেও একই মন্তব্য করেছেন।
৯) “মুমিনের উচ্ছিষ্টে রয়েছে  আরোগ্য।”
হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।
ভিত্তি নেই বলেছেনঃ  শাইখ আহমাদ আল গাযাযী (রহঃ), শাইখ আজলূনী (রহঃ) ।
শাইখ আহমাদ আল গাযাযী (রহঃ) বলেনঃ এটি কোন হাদীস নয়।  (আল-যাদ্দুল হাসীস )
১০) “যে ব্যক্তি তর্জনী অংগুলি দু’টির ভিতরের অংশ দ্বারা মুয়ায্‌যিন কর্তৃক আশ্‌-হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বলার সময় দু’চোখ মাসেহ করবে; তার জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুপারিশ অপরিহার্য হয়ে যাবে।”
হাদীসটি সহীহ নয়।
সুত্রঃ  এটি  “মুসনাদুল ফিরদাউস”  গ্রন্থে রয়েছে ।
সহীহ নয় বলেছেনঃ ইমাম ইবনু তাহির (রহঃ) (আত-তাযকীরাহ), ইমাম শওকানী (রহঃ)  (আহাদিসুল মাওযূ’আহ), ইমাম সাখাবী (রহঃ)  (মাকাসিদুল হাসানা) ।
(আল ইসলাম বাংলা ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম থেকে সংকলিত)।
চলবে ইনশাআল্লাহ….
লিখেছেন- আব্দুল্লাহিল হাদী

সহীহ্ বোখারী শরীফ (হাদিস ৮০ থেকে ৯২)

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ প্রিয় বন্ধুরা। মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া যানাচ্ছি আমাকে এই পোষ্টটি করার তাওফিক দান করার জন্য।
আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো সহীহ্ বোখারী শরীফ (হাদিস ৮০ থেকে ৯২)
গত পোষ্টটি যারা পড়েন নি তারা এখান থেকে পড়ে নিনসহীহ্ বোখারী শরীফ (হাদিস ৭১ থেকে ৭৯)
পরিচ্ছেদ ৬৩ :-ইলম বিলুপ্তি ও মূর্খতার প্রসার – হাদিস নং ৮০ এবং ৮১
হাদিস –৮০
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত,তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যে,কিয়ামতের কিছু নিদর্শন হলঃ ইলম কমে যাবে,অজ্ঞতার বিস্তৃতি ঘটবে,মদপান ব্যাপক হবে এবং ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে।
হাদিস –৮১
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি তোমাদেরকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করব যা আমার পর তোমাদের কাছে আর কেউ বর্ণনা করবেনা।আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের কিছু নিদর্শন হলঃ
ইলম কমে যাবে।
অজ্ঞতার প্রসার ঘটবে।
ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে।
স্ত্রীলোকের সংখ্যা বেড়ে যাবে ও পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে এমনকি প্রতি ৫০ জন স্ত্রীলোকের জন্য মাত্র একজন পুরুষ হবে তত্ত্বাবধায়ক।
পরিচ্ছেদ ৬৪ :-ইলমের ফযীলত – হাদিস নং ৮২
হাদিস –৮২
ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)কে বলতে শুনেছি,একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম।তখন (স্বপ্নে)আমার কাছে এক পেয়ালা দুধ আনা হল।আমি তা পান করলাম (তার পরিতৃপ্তি আমার সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়ল)।এমনকি আমার মনে হতে লাগল যে,সে পরিতৃপ্তি আমার নখ দিয়ে বের হচ্ছে।এরপর যেটুকু অবশিষ্ট ছিল,তা আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে দিলাম।সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)জানতে চাইলেন,ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি এই স্বপ্নের কি তাবির করেন?তিনি বললেন,তা হল ইলম।
পরিচ্ছেদ ৬৫ :-প্রানী বা অন্য বাহনে আসীন অবস্হায় ফতোয়া দেওয়া – হাদিস নং ৮৩
হাদিস –৮৩
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বিদায় হজ্জের দিন মিনায় মানুষের (প্রশ্নের উত্তর দানের) জন্য (বাহনের উপর) বসা ছিলেন।লোকে তার কাছে বিভিন্ন মাসয়ালা জিজ্ঞেস করছিল।এক ব্যাক্তি তার কাছে এসে বলল,আমি ভুলবশত কুরবানি করার আগেই মাথা মুন্ডিয়ে ফেলেছি।তিনি বললেনঃযবেহ কর,কোন ক্ষতি নেই।আর এক ব্যাক্তি এসে বলল,আমি ভুলবশত কঙ্কর নিক্ষেপ করার আগেই কুরবানি করে ফেলেছি।তিনি বললেনঃ কঙ্কর ছুড়ো,কোন অসুবিধা নেই।
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বলেন,নবীকে সে দিন আগে বা পরে যে কাজ সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল,তিনি একথাই বলেছিলেনঃকর, কোন অসুবিধা নেই।
পরিচ্ছেদ ৬৬ :-হাত ও মাথার ইশারায় মাসআলার জওয়াব দান – হাদিস নং ৮৪ এবং ৮৫ এবং ৮৬
হাদিস –৮৪
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেজে বর্নিত,হজ্জের সময় নবী (সাঃ) কে (নানা বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করা হল।কোন একজন বলল,আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পুর্বেই যবেহ করে ফেলেছি।ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন,তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃকোন অসুবিধা নেই।আর এক ব্যাক্তি বলল, আমি যবেহ করার পুর্বে মাথা মুন্ডিয়ে ফেলেছি।তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃকোন অসুবিধা নেই (যেহেতু ভুলবশত করা হয়েছে)।
হাদিস –৮৫
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,নবী করীম (সাঃ) বলেছেন,(শেষ যমানায়) ইলম তুলে নেয়া হবে,অজ্ঞতা ও ফিতনার প্রসার ঘটবে এবং ‘হারাজ’ বেড়ে যাবে।জিজ্ঞাসা করা হল,ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ)! ‘হারাজ’ কি?তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ এ রকম।যেন তিনি এর দ্বারা হত্যা বুঝিয়েছিলেন।
হাদিস –৮৬
হযরত আসমা (রাঃ) থেকে বর্নিত,তিনি বলেন,আমি আয়েশা (রাঃ) এর কাছে এলাম,তিনি তখন সালাত আদায় করছিলেন।আমি বললাম।‘মানুষের কি হয়েছে?’তিনি আকাশের দিকে ইঙ্গিত করলেন (দেখ,সুর্য গ্রহণ লেগেছে).তখন সকল লোক (সূর্যগ্রহনের নামাজের জন্য) দাঁড়িয়ে রয়েছে।আয়েশা (রাঃ) বলেন,সুবহানাল্লাহ!আমি বললাম,এটা কি কোন নিদর্শন?তিনি মাথা দিয়ে ইশারা করলেন,হ্যাঁ।এরপর আমি (সালাতের) জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম।এমনকি (সালাত এত দীর্ঘ ছিল যে) আমার বেহুঁশ হয়ে পড়ার উপক্রম হল।তাই আমি মাথায় পানি ঢালতে লাগলাম।পরে (সালাত শেষে) নবী (সাঃ) আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ননা করলেন।এরপর বললেনঃযা কিছু আমাকে ইতিপুর্বে দেখেনো হয়নি।তা আমি আমার এ স্থানেই দেখতে পেয়েছি।এমনকি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছি।এরপর আল্লাহ তায়ালা আমার কাছে অহী প্রেরণ করলেন, ‘তোমাদের কবরের মধ্যে পরিক্ষা করা হবে দাজ্জালের ন্যায় (কঠিন) পরিক্ষা অথবা তার কাছাকাছি’।
পরিচ্ছেদ ৬৭ :-আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দলকে ঈমান ও ইলমের হিফাযত করা এবং পরবর্তীদেরকে তা অবহিত করার ব্যাপারে নবী (সাঃ)- এর উৎসাহ দান – হাদিস নং ৮৭
হাদিস –৮৭
আবু জামরা (র) থেকে বর্নিত,তিনি বলেন,আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও লোকদের মধ্যে দোভাষীর কাজ করতাম।একদিন ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন,আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী (সাঃ) এর কাছে এলে,তিনি বললেনঃ তোমরা কোন প্রতিনিধি দল?অথবা বললেনঃতোমরা কোন গোত্রের?তারা বলল,রাবীয়া গোত্রের।তিনি বললেনঃ মারহাবা।এ গোত্রের প্রতি অথবা এ প্রতিনিধি দলের প্রতি,এরা কোনরূপ অপদস্থ ও লাঞ্চিত না হয়েই এসেছে।তারা বলল,আমরা বহুদুর থেকে আপনার কাছে এসেছি।আর আমাদের ও আপনার মাঝে রয়েছে কাফিরদের এই ‘মুজার’ গোত্রের বাস।আমরা শাহ্‌রে-হারাম ছাড়া আপনার কাছে আসতে সক্ষম নই।সুতরাং আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন, যা আমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের কাছে পৌছাতে এবং তার অসিলায় আমরা জান্নাতে পৌছতে পারি।তখন তিনি তাদের ৪টি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং ৪টি কাজ থেকে নিষেধ করলেন।তাদের এক আল্লাহর উপর ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন।তিনি বললেনঃ এক আল্লাহর উপর ইমান আনা কিরুপ হয় জান?তারা বলল, আল্লাহ ও তার রাসুল (সাঃ) ভালো জানেন।তিনি বললেন,তা হল এ সাক্ষ্য দেওয়া যে,আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রাসুল,সালাত কায়েম করা,যাকাত দেয়া এবং রমযানের সিয়াম পালন করা আর তোমরা গনিমতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে।আর তাদের নিষেধ করলেন শুকনো লাউয়ের খোল,সবুজ কলস এবং আলকাতরার পালিশকৃত পাত্র ব্যবহার করতে।শুবা বলেন,কখনো (আবু জামরা) খেজুর গাছ থেকে তৈরি পাত্রের কথাও বলেছেন।রাসুল (সাঃ) বললেনঃতোমরা এগুলো মনোযোগ সহকারে স্মরন রাখ এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের কাছে পৌছে দাও।
পরিচ্ছেদ ৬৮ :-উদ্ভূত মাসআলার জন্য সফর করা এবং নিজের পরিজনদের শিক্ষা দেওয়া – হাদিস নং ৮৮
হাদিস –৮৮
উকবা ইবনুল হারিস (রাঃ) বর্ননা করেন,তিনি আবু ইহাব ইবনে আযীয (র) এর কন্যাকে বিবাহ করলে তার কাছে একজন স্ত্রীলোক এসে বলল,আমি উকবাকে এবং সে যাকে বিয়ে করেছে তাকে দুধ পান করিয়েছি।উকবা (রাঃ) তাকে বললেনঃ আমি জানিনা যে,তুমি আমাকে দুধ পান করিয়েছ।আর (ইতিপুর্বে) তুমি আমাকে এ কথা জানাওনি।এরপর তিনি মদিনায় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে গেলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন।রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ এ কথার পর তুমি কিভাবে তার সাথে সংসার করবে?এরপর উকবা তার স্ত্রীকে আলাদা করে দিলেন এবং সে মহিলা অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল।
পরিচ্ছেদ ৬৯ :-পালাক্রমে ইলম শিক্ষা করা – হাদিস নং ৮৯
হাদিস –৮৯
উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত,তিনি বলেনঃ আমি ও আমার এক আনসারি প্রতিবেশী বনি উমাইয়্যা ইবনে যায়েদের মহল্লায় বাস করতাম।এ মহল্লাটি মদিনার উচু এলাকায় অবস্থিত।আমরা দু’জনে পালাক্রমে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর খিদমতে হাযির হতাম।তিনি একদিন আসতেন আর আমি একদিন আসতাম।আমি যেদিন আসতাম,সেদিনের প্রভৃতির খবর নিয়ে তাকে পৌছে দিতাম।আর তিনি যেদিন আসতেন সেদিন তিনি অনুরূপ করতেন।এরপর একদিন আমার আনসারি সঙ্গি তার পালার দিন এলেন এবং (সেখান থেকে ফিরে) আমার দরজায় খুব জোরে জোরে করাঘাত করতে লাগলেন।তিনি বললেন,এক বিরাট ঘটনা ঘটে গেছে।[রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন] আমি তখনি আমার কন্যা হাফসা (রাঃ) এর কাছে গেলাম।সে তখন কাঁদছিল।আমি বললাম,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কি তোমাদের তালাক দিয়েছেন?সে বলল, ‘আমি জানিনা’ এরপর আমি নবী করীম (সাঃ) এর কাছে গেলাম এবং দাঁড়িয়ে থেকেই বললামঃ আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন?জবাবে তিনি বললেনঃ ‘না’।আমি তখন আল্লাহু আকবার বলে উঠলাম।
পরিচ্ছেদ ৭০ :-অপসন্দনীয় কিছু দেখলে ওয়ায-নসীহত বা শিক্ষাদানের সময় রাগ করা – হাদিস নং ৯০ এবং ৯১ এবং ৯২
হাদিস –৯০
আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্নিত,তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি বলল, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি নামাজের জামাতে আসতে পারিনা।কারণ অমুক ব্যক্তি আমাদের নিয়ে খুব লম্বা করে সালাত আদায় করে থাকেন।’ (আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ) বলেন) আমি নবী (সাঃ)কে কোন ওয়াজের মজলিশে সেদিনের তুলনায় বেশী রাগান্বিত হতে দেখেনি।তিনি বললেনঃ হে লোক সকল!তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি কর।অতএব,যে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে সে যেন সংক্ষেপে করে।কারণ তাদের মধ্যে রোগী,দুর্বল ও কর্ম্ব্যস্ত লোক থাকেন।
হাদিস –৯১
যায়দ ইবনে খালিদ আল-জুহানি (রাঃ) থেকে বর্নিত যে,এক ব্যক্তি নবী করীম (সাঃ)কে হারানো বস্তু প্রাপ্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল।তিনি বললেনঃ তার বাধনের রশি অথবা বললেনঃথলে-ঝুলি ভালো করে চিনে রাখ।এরপর এক বছর পর্যন্ত তার ঘোষণা দিতে থাক।তারপর (মালিক পাওয়া না গেলে) তুমি তা ব্যবহার কর।এরপর যদি এর মালিক আসে তবে তাকে তা দিয়ে দিবে।সে বলল, ‘হারানো উঠ পাওয়া গেলে?’এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এমন রেগে গেলেন যে,তার চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল।অথবা বর্ননাকারি বলেন,তার মুখমন্ডল লাল হয়ে গেল।তিনি বললেনঃ উঠ নিয়ে তোমার কি হয়েছে?তার তো আছে পানির মশক ও শক্ত পা।পানির কাছে যেতে পারে আর গাছের লতা-পাতা খেতে পারে।তাই তাকে ছেড়ে দাও,যাতে তার মালিক তাকে পেয়ে যায়।সে বলল,হারানো বকরি পাওয়া গেলে? তিনি বললেনঃ সেটি তোমার,নয়ত তোমার ভাইয়ের,নয়ত বাঘের।
হাদিস –৯২
আবু মুসা (রাঃ) থেকে বর্নিত,তিনি বলেন,একবার নবী করীম (সাঃ) কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল।প্রশ্নের সংখ্যা যখন বেশী হয়ে গেল,তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদের বললেনঃ তোমরা আমার কাছে যা ইচ্ছা প্রশ্ন কর।এক ব্যাক্তি বলল, ‘আমার পিতা কে?’তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফা।’আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ!আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হল শায়বার মাওলা (মুক্তিপ্রাপ্ত গোলাম) সালিম।’তখন হযরত উমর (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর চেহারার অবস্থা দেখে বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ!আমরা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তওবা করছি।
আজ এই পর্যন্ত ই । ধন্যবাদ সকলকে । আল্লাহ হাফেজ