Showing posts with label Ramadan. Show all posts
Showing posts with label Ramadan. Show all posts

কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা

বিশ্বব্যাপি পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। কিন্তু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের মধ্যে ব্যবধানের কারণে বিভিন্ন দেশে রোজা পালনে সময়ের তারতম্য রয়েছে। সারাবিশ্বে কোন দেশ কত ঘণ্টা রোজা পালন করছে তার একটি চিত্র তুলে ধরেছে আরব আমিরাতের জাতীয় দৈনিক খালিজ টাইমস।
এতে বলা হয়েছে, সবচেয়ে দীর্ঘসময় রোজা পালন করতে হচ্ছে সুইডেন ও ডেনমার্কের মুসলিমদেরকে। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম সময় রোজা পালন করছেন আজেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়ার মুসিলমরা। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক; কোন দেশের মুসলিমরা কত ঘণ্টা রোজা পালন করছেন…
ডেনমার্ক : এই দেশের মুসলিমরা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রোজা পালন করছেন। সেহরি খাওয়ার পর থেকে ইফতার পর্যন্ত মোট ২১ ঘণ্টা রোজা পালন করছেন দেশটিতে থাকা মুসলিমরা।
আইসল্যান্ড, সুইডেন ও নরওয়ে : এই তিন দেশের মুসলিমদেরকে ২০ রোজা পালন করতে হচ্ছে।
নেদারল্যান্ড ও বেলজিয়াম : এই দুই দেশে সাড়ে ১৮ ঘণ্টা রোজা রাখতে হচ্ছে। এরপরেই আছে স্পেন (১৭ ঘণ্টা), জার্মানিতে সাড়ে ১৬ ঘণ্টা। গত ৩০ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত রোজা রাখতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইতালিতে রোজা ১৬ ঘণ্টা।
মধ্যপ্রাচ্য : সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫ ঘণ্টা, মিসরে ১৬ ঘণ্টা, ফিলিস্তিনে ১৫ ঘণ্টা রোজা পালন করতে হচ্ছে। ইয়েমেনের মুসলিমরা ১৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট, কাতারের ১৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, আলজেরিয়া, মরক্কো, লিবিয়া, সুদানে ১৪ ঘণ্টা রোজা রাখছেন মুসলিমরা। সৌদি আরবে ১৫ ঘণ্টা।
এশিয়া : পাকিস্তানে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা রোজা পালন করতে হচ্ছে, বাংলাদেশের মুসলিমরা ১৫ ঘণ্টার কিছু বেশি রোজা রাখছেন। ভারতে স্থানভেদে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা।
আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়া : সবচেয়ে কম সময় রোজা রাখা হচ্ছে এই দুই দেশে। আজেন্টিনায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা ও অস্ট্রেলিয়ায় ১০ ঘণ্টা, ব্রাজিলে ১১ ঘণ্টা রোজা রাখছেন মুসলিমরা।
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক,শেয়ার ও কমেন্ট করে পাশে থাকুন। ঘুরে আসতে পারেন। www.facebook.fom/sobkichu24 www.free.facebook.com/sobkichu24

সেহরি ও ইফতারের ফজিলত


iftariরোজা মানুষের আত্মার উন্নতি বিধানের ক্ষেত্রে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যারা পরিপূর্ণভাবে রোজা পালন করে, তারা রমজান শেষে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো পূতঃপবিত্র হয়ে যায়।’ এ জন্য অনাদিকাল থেকে আল্লাহতায়ালার হুকুমে খোদাভীরুরা রোজা পালন করে আসছেন। দয়াপরবশ হয়ে আল্লাহতায়ালাও উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য রমজান মাসে রোজা পালন ফরজ করেছেন, যাতে তারা রহমতের ছায়াতলে থেকে, আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পায়।
প্রতিদিন রোজাদারের রোজা শুরু হয় ভোররাতে সেহরির মাধ্যমে এবং দিনশেষে সূর্যাস্তের পর ইফতারের মাধ্যমে রোজার সমাপ্তি হয়। সেহরি ও ইফতার হচ্ছে রোজা শুরু ও শেষের দুটি প্রান্তসীমা। দুটি প্রান্তসীমাতেই খাওয়ার বিধান ও ফজিলত রয়েছে। রোজায় দীর্ঘ সময় খানাপিনা থেকে বিরত থাকতে হয় বলে শুরুতে খেয়ে নেওয়া এবং শেষে আবার খেতে বসার একটি মানবীয় প্রয়োজনীয়তা পূরণেই সেহরি-ইফতারের ফজিলত ও আবেদন সীমাবদ্ধ নয়। সেহরি ও ইফতার খাওয়া স্বতন্ত্র একটি ইবাদতও বটে।
এটা পালন করার মাঝে বহু ফজিলত ও তাৎপর্য রয়েছে। এক ঢোক পানি কিংবা এক লোকমা খাদ্য দিয়ে হলেও সেহরি খেতে উৎসাহিত করা হয়েছে হাদিসে। রোজার নিয়তে সেহরি খাওয়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সেহরি খাও, তাতে বরকত আছে।’ সেহরি পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়। সামান্য খেলেও সেহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। শেষ সময়ে সেহরি খাওয়া মোস্তাহাব। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, সময় যেন পার না হয়ে যায়। ইহুদি-খ্রিস্টানদের রোজায় সেহরির বিধান ছিল না।
ইসলামের প্রথম যুগেও সেহরি ছাড়াই রোজা রাখা হতো। পরবর্তী সময়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) সেহেরি খাওয়ার বিধান নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের (ইহুদি-খ্রিস্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া।’ সেহরি সুবহে সাদিকের আগেই খেতে হয়। এরপর কিছু খেলে রোজা হবে না। অনেকে মনে করেন, ফজরের আজান পর্যন্ত সেহরির সময় থাকে।
এটা ঠিক নয়। কেউ যদি সেহরির সময় আছে মনে করে খেয়ে ফেলে, আর বাস্তবে সময় না থাকে তাহলে তাকে রোজা কাজা করতে হবে। অন্যদিকে ইফতার রোজাদারদের জন্য একটি আনন্দময় সময়। সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নত এবং সূর্যাস্তের আগে ইফতারি সামনে নিয়ে বসে থাকা মোস্তাহাব। হাদিসে ইফতার সম্পর্কে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষ কল্যাণের সঙ্গে থাকবে ততকাল, যতকাল তারা শিগগির ইফতার করবে’ (বোখারি শরীফ)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘দ্বীন জয়ী থাকবে ততদিন, যতদিন লোক শিগগির ইফতার করবে। কেননা ইহুদি-খ্রিস্টানরা ইফতার করে দেরিতে’ (আবু দাউদ ও ইবনে মাজা)। ইফতার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে আমার কাছে অধিকতর প্রিয় তারাই, যারা আগেভাগে ইফতার করে’ (তিরমিজি)।মূলত আগের যুগে যেসব সম্প্রদায়ের ওপর রোজা ফরজ ছিল তারা ইফতার করতে বিলম্ব করায় ইফতারের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হতো।
শেষ নবীর উম্মত যেন সে বঞ্চনার শিকার না হয় বিভিন্ন হাদিসের মাধ্যমে নবী (সা.) সেদিকেই সবাইকে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে রোজার প্রস্তুতি ও সমাপ্তির খাবার দুটিতে অন্য রোজাদারদের শরিক করার পক্ষেও বহু ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সেহরির সময়ের মতো ইফতারের আগ মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে দোয়া কবুল হয়। দিনব্যাপী সংযম শেষে নির্দিষ্ট সময়ে ইফতার করার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তায়ালার দেওয়া রিজিক আস্বাদনের যে বান্দাসুলভ ব্যাকুলতার চিত্র ফুটে ওঠে, আল্লাহতায়ালার কাছে তা অত্যন্ত পছন্দনীয়।
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক,শেয়ার ও কমেন্ট করে পাশে থাকুন। ঘুরে আসতে পারেন। www.facebook.fom/sobkichu24 www.free.facebook.com/sobkichu24

তারাবি নামাজের নিয়ত ও দোয়া

 এশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে ১০ সালামে ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করা হয়।
আরবি ‘তারাবিহ’ শব্দটির মূল ধাতু ‘রাহাতুন’ অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা। রমজান মাসের জন্য নির্দিষ্ট তারাবি নামাজ জামাতে পড়া ও সম্পূর্ণ কোরআন শরিফ একবার খতম করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তারাবি নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে পড়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন।
তারাবি নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা ও কোরআন শরিফ খতম করা অধিক সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তারাবি নামাজের জন্য রাতের কোনো বিশেষ সময়কে নির্দিষ্ট করে দেননি। তবে তারাবি নামাজ অবশ্যই এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে আদায় করতে হবে।
তারাবি নামাজের নিয়ত- نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر. (নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা, রকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তা’আলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।) অর্থ: আমি ক্বিবলামুখি হয়ে দু’রাকাআত তারাবিহ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাজের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।
তারাবি নামাজের চার রাকাত পরপর দোয়া- سبحان ذى الملك والملكوت سبحان ذى العزة والعظمة والهيبة والقدرة والكبرياء والجبروت . سبحان الملك الحى الذى لاينام ولا يموت ابدا ابدا سبوح قدوس ربنا ورب الملئكة والروح. উচ্চারণ: সুব্হানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি সুবহানাযিল ইযযাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুত। সুব্হানাল মালিকিল হায়্যিল্লাযি লা-ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা। সুব্বুহুন কুদ্দুছুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক,শেয়ার ও কমেন্ট করে পাশে থাকুন। ঘুরে আসতে পারেন। www.facebook.fom/sobkichu24 www.free.facebook.com/sobkichu24

রমজানে তারাবির গুরুত্ব

মাহে রমজানের চতুর্থতম  রোজা আজ। রহমতের ১০ দিনের ৪র্থ দিন আজ।
   রমজানে তারাবির গুরুত্ব অনেক। এটি এই রমজানের বিশেষ এবাদত হিসেবে গণ্য। পবিত্র রমজানে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে পছন্দের এবাদত ছিল, তাই এটি উম্মতে মোহাম্মদীর কাছেও পছন্দের। যুগ যুগ ধরে বিশ্ব মুসলিম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মাহে রমজানে সালাতুত তারাবিহ আদায় করে আসছেন।
সালাতুত তারাবি বিশেষ নামাজ। ইসলামী হুকুম অনুযায়ী এটি সুন্নাতে মোয়াক্কাদাহ। মূলত মাহে রমজানে রাতের বেলায় এশার ফরজ ও সুন্নাত নামাজের পরে বিতরের আগে তারাবির নামাজ আদায় করতে হয়।
সাধারণ নফল ও সাধারণ সুন্নাতের চেয়ে অধিকতর মর্যাদাবান। গুরুত্বের দিক থেকে ওয়াজিবের কাছাকাছি। তারাবির নামাজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। এর ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) এর অনেক হাদিস রয়েছে।
সাহাবি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) রমজান সম্পর্কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব (পুণ্য) লাভের আশায় কিয়ামে রমজান তথা তারাহির নামাজ আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ বোখারি/ সহিহ মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাতুত তারাবিহকে কতখানি গুরুত্ব দিতেন এবং উম্মতি মোহাম্মদীর জন্য তারাবি যাতে ফরজ হয়ে না যায়, সেজন্য কী করেছেন তা নিচের হাদিস পড়লেই অনুমেয় হবে।
এ প্রসঙ্গে হজরত উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের (রা.) হজরত আয়েশা সিদ্দিকী (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) একবার রমজান মাসে রাত্রিবেলায় মসজিদে নববীতে নামাজ (তারাবি) আদায় করলেন। উপস্থিত লোকজনও তাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন। একইভাবে তাঁরা দ্বিতীয় দিনেও নামাজ আদায় করলেন এবং লোকসংখ্যা অনেক বেশি হল। অতঃপর তৃতীয় এবং চতুর্থ দিনেও মানুষ একত্রিত হলো কিন্তু রাসুলুল্লাহ (স.) হুজরা থেকে বেরিয়ে তাদের কাছে এলেন না। অতঃপর সকাল হলে তিনি এলেন এবং বললেন, তোমাদের অপেক্ষা করার বিষয়টি আমি লক্ষ্য করেছি। কিন্তু শুধু এ ভয়ে আমি তোমাদের নিকট আসা থেকে বিরত থেকেছি যে, আমার আশঙ্কা হচ্ছিল, না জানি তোমাদের ওপর উহা (তারাবি) ফরজ করে দেওয়া হয়। (সহি বোখারি : ৯২৪, সহি মুসলিম : ৭৬১)।
হাদিসের তথ্যমতে রাসুলুল্লাহ (স.) তিনদিন মসজিদে নববীতে জামাতের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করেছেন। অতঃপর রাসুলের যুগে এবং হজরত আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে এবং হজরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতের প্রথম দিকে মুসলমানরা একাকী অথবা খণ্ড খণ্ড ছোট জামাতে তারাবির নামাজ আদায় করতেন।
অবশেষে হজরত ওমর (রা.) হজরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.)-কে ইমাম নির্ধারণ করে সম্মিলিতভাবে জামাতের সঙ্গে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায়ের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গে সহি বোখারি : ২০১০ দ্রষ্টব্য।
তারাবির নামাজ এশার নামাজের পর বিতরের আগে ২০ রাকাত জামাতে পড়া উত্তম। মহানবী (সা.) কখনো চার রাকাত, কখনো আট রাকাত, কখনো ১২ রাকাত, তবে বেশির ভাগ ২০ রাকাত পড়তেন। নবীজীর জীবদ্দশায় সাহাবাগণও অধিকাংশ ২০ রাকাত তারাবি আদায় করতেন। ২০ রাকাত পড়ার ব্যাপারে সর্বজন ফকীহগণও একমত হয়েছেন। বরং আমিরুল মোমিনিন হযরত ওমর ফারুকের (রা.) জামানায় জামাতের সঙ্গে ২০ রাকাত তারাবি আদায় করা হতো।
ইমাম আজম আবু হানিফা (রা.) এর অনুসারীরা সুদীর্ঘকাল ধরে জামাতে ২০ রাকাত তারাবি পড়ে আসছেন। তবে কেউ চাইলে ৮ কিংবা ১২ রাকাতও পড়তে পারেন।
মূলত মাহে রমজানে তারাবির নামাজের গুরুত্ব সীমাহীন। কারণ মাহে রমজান যেসব বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য মহিমান্বিত, তার মধ্যে অন্যতম হলো তারাবির নামাজ। তারাবির নামাজ মুসলমানদের ওপর সারা বছরের মধ্যে শুধুই রমজান মাসের জন্য সুন্নাত বিধান হিসেবে স্থিরকৃত। যেহেতু রমজান মাস ছাড়া বছরের অন্য কোনো সময়ে তারাবির নামাজ আদায় করার সুযোগ নেই, তাই বার্ষিক ইবাদত হিসেবে এর গুরুত্ব অন্যান্য সুন্নাত নামাজ অপেক্ষা বেশি। রাসুলে  কারিম (স.) তারাবির নামাজকে অত্যন্ত গুরুত্বসহ আদায় করতেন বলে সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
অতএব মাহে রমজানের বিশেষ ফজিলতপূর্ণ তারাবির নামাজকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। আসুন! মহানবী (সা.) এর ঘোষণামতে তারাবির নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহ পাকের কাছে গুনাহ মাফের বিশেষ সুযোগকে কাজে লাগাই। আল্লাহতাআলা আমাদের সবাইকে ইসলামী হুকুমমতে তারাবির নামাজ আদায় করার তওফিক দিন- আমিন।
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক,শেয়ার ও কমেন্ট করে পাশে থাকুন। ঘুরে আসতে পারেন। www.facebook.fom/sobkichu24 www.free.facebook.com/sobkichu24

যেসব কারণে রোজা ভাঙার অনুমতি আছে

রমজান মাসে রোজা রাখা মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই ইবাদত পালনীয় নাও হতে পারে। তাই যেসব কারণে রোজা ভেঙে ফেলার অনুমতি রয়েছে পাঠকদের জন্য সেসব বিষয় তুলে ধরা হলো।
► যদি এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে যে রোজা রাখার শক্তি নেই বা রোজা রাখার দ্বারা অসুস্থতা বেড়ে যাবে, তাহলে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে হ্যাঁ, যখনই সুস্থ হয়ে যাবে, তখনই তার ওপর রোজা কাজা করে নেয়া ওয়াজিব। (আপকে মাসায়েল : খ. ৩, পৃ. ২০২)
► যে ব্যক্তি এমন দুর্বল হয়ে যায় যে রোজা রাখার শক্তি নেই। (আপকে মাসায়েল : খ. ৩, পৃ. ২০৩)
► এমন ক্ষুধা বা পিপাসা লাগে যে প্রাণ চলে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যায়। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০৭)
► গর্ভধারিণী বা স্তন্যদানকারিণী মহিলা যদি নিজের অথবা নিজের বাচ্চার প্রাণপাতের আশঙ্কা করেন, তাহলে তার জন্য রোজা ভেঙে ফেলা জায়েজ আছে। (আলমগিরি : খ. ১, পৃ. ২০৭)
► রোজা থাকার কারণে যদি জীবনযাপনের সামগ্রী উপার্জন করতে দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে তার জন্য রোজা ভেঙে ফেলার অনুমতি রয়েছে। তবে তা পরে কাজা করে নিতে হবে। তা-ও সম্ভব না হলে ফিদিয়া আদায় করবে এবং প্রতি রোজার পরিবর্তে সদকায়ে ফিতর পরিমাণ দান করে ফিদিয়া আদায় করবে। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৪০০)
► অনুরূপভাবে ফসল কর্তন করার ক্ষেত্রে। যদি রোজা থাকা অবস্থায় ফসল কর্তন করা সম্ভব না হয়। অন্যদিকে দেরি হলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে রোজা না রাখার অনুমতি আছে এবং অন্য সময় কাজা করে নেবে। (শামি : খ. ৩, পৃ. ৪০০)
ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক,শেয়ার ও কমেন্ট করে পাশে থাকুন। ঘুরে আসতে পারেন। www.facebook.fom/sobkichu24 www.free.facebook.com/sobkichu24

ত্রিশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ রোজা

উত্তর গোলার্ধের মুসলিমদের এবার ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় না খেয়ে পবিত্র রমজান পালন করতে হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ অঞ্চলে সোমবার থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। এবার প্রায় ২০ ঘণ্টা তাদের পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। শীতকালে এ অঞ্চলের মুসলিমদের না খেয়ে থাকতে হয় আট ঘণ্টার মত।
‘গত বছরও আমাদের এই পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। কিন্তু এবার এটা আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এটা আমাদের অভিজ্ঞতার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেশিরভাগ মুসলিম এটাকে দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করেন,’ বলছিলেন মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের সহকারী মহাসচিব ইব্রাহীম মোগরা।
যুক্তরাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় উপোস থাকতে হবে স্কটিশ হাইল্যান্ডস ও আয়ল্যান্ডের বাসিন্দাদের। এখানে সূর্য অস্ত যায় না বললেই চলে। যেটা হয় তা হলো গোধূলি।
যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে উত্তরের মসজিদ, ইনভার্নিস মসজিদের ট্রাস্টি এবং পেশায় চিকিৎসক ওয়াহিদ খান বলেন, ‘এসব সত্ত্বেও মুসলিমরা রোজা রাখতে বদ্ধপরিকর। এটা কঠিন মনে হলেও রোজা রাখা আসলে সহজ।’
গত বছর যুক্তরাজ্যের মুসলিমরা জাকাত ও সদকা মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি পাউন্ড বা ১১৪০ কোটি টাকা দান করেন। এবার সেই রেকর্ড তারা ভাঙবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান দাতব্য হিউম্যান আপিলের প্রধান নির্বাহী ওসমান মকবুল বলেন, গত ৫ বছরে এখানে বার্ষিক  অনুদান বেড়েছে ছয়গুণ। রমজানে অনুদান কয়েকগুণ বেড়ে যায়। 
সূত্র: দা গার্ডিয়ান

ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক,শেয়ার ও কমেন্ট করে পাশে থাকুন। ঘুরে আসতে পারেন। www.facebook.fom/sobkichu24 www.free.facebook.com/sobkichu24