Showing posts with label Islamic ASK. Show all posts
Showing posts with label Islamic ASK. Show all posts

বাসন চেটে খেলে কি কন্যা সন্তান হয়?

এক ভাইকে বাসন চেটে খাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা হলে সে বলল, ‘প্লেট চেটে খেলে তো কন্যা সন্তান হয়’। আরেকজন মন্তব্য করলেন, চেটে খাওয়া তো অভদ্রতা ও দারিদ্রে্যর আলামত। (নাউযুবিল্লাহ)
ধারণা দুটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অর্থহীন ও নিতামত্মই মূর্খতা। দ্বীনী বিষয়ে গাফলত ও অজ্ঞতার কারণেই যে এ ধরনের কথাবার্তা মানুষ বলে থাকে তাতে কোনো সন্দেহ  নেই। কেননা সন্তান দেওয়া না দেওয়া বা কাউকে ছেলে সন্তান দেয়া, কাউকে মেয়ে সন্তান দেয়া তো সম্পূর্ণ আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন। বাসন চেটে খাওয়ার সাথে এর কী সম্পর্ক? আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) ‘‘আসমান যমীনের রাজত্ব আল্লাহ্রই; তিনি যা চান সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র দেন। অথবা তাদেরকে পুত্র-কন্যা উভয়ই দান করেন। আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। তিনি সবকিছুই জানেন, সব কিছুই করতে পারেন।’’ -সূরা শুরা ৪২ : ৪৯-৫০ এ ধরনের ধারণার আরেকটি বাজে দিক হলো, তাতে জাহেলী যুগের দুর্গন্ধ প্রকাশ পাচ্ছে। জাহেলী যুগে কন্যা সন্তানের কথা শুনলেই মানুষের মুখ কালো হয়ে যেত। (সূরা নহল ১৬ : ৫৮) আল্লাহ তো কন্যা সন্তানের সংবাদকে ‘সুসংবাদ’ বলে ব্যক্ত করেছেন।
আর সম্ভবত দ্বিতীয় মন্তব্যটি ঐ ভদ্রলোক এজন্য করেছেন যে, তার জানা নেই; বাসন চেটে খাওয়া রাসূলের সুন্নত। কারণ যার হৃদয়ে তিল পরিমাণ ঈমান আছে, বিষয়টি সুন্নত জানার পরও সে ব্যক্তি এ ধরনের মন্তব্য করতে পারে না। কোন্টা ভদ্রতা ও আদব-কায়দা আর কোন্টা অভদ্রতা ও বেআদবী তা তো রাসূলের কাছ থেকেই শিখতে হবে।
হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন তোমাদের কেউ খানা খাবে সে যেন তার আঙ্গুল চেটে খায়। আর লোকমা (খাদ্যদ্রব্য) পড়ে গেলে সে যেন ময়লা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা রেখে না দেয়। সাথে সাথে তিনি আমাদেরকে পাত্র চেটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কারণ, তোমাদের জানা নেই খাদ্যের কোন্ অংশে বরকত রয়েছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৬; জামে তিরমিযী, হাদীস  ১৮০৩
আল্লাহ আমাদের সকলকে সহীহ ইলম ও সমঝ দান করুন। আমীন

রুকুতে যেতে যেতে তাকবীরে তাহরীমা বললে নামায হবে?

প্রশ্ন

অনেক সময় মসজিদে আসলে দেখা যায় যে, ইমাম সাহেব রুকুতে চলে গেছেন। তখন আমরা কাতারে দৌড়ে এসে তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে চলে যাই। একজন আমাকে জানালে যে, এভাবে রুকুতে গেলে নাকি নামায হয় না। এ ব্যাপারে জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم
আসলে নামাযের মাঝে তিন ধরণের তাকবীর রয়েছে। যথা-
১-তাকবীরে তাহরীমা।
২-তাকবীরে ইন্তিকালিয়া তথা উঠাবসার তাকবীর।
৩-তাকবীরে জায়েদা বা অতিরিক্ত তাকবীর।
তাকবীরে তাহরীমা ফরজ। তাকবীরে তাহরীমা আদায়ের স্থান হল দাঁড়িয়ে তা আদায় করা।
তাকবীরে ইন্তিকালিয়া তথা উঠাবসার তাকবীর সুন্নত। যা রুকু সেজদায় যাওয়া ও উঠার সময় বলা হয়ে থাকে।
তাকবীরে জায়েদা তথা অতিরিক্ত তাকবীর। যেমন ঈদের নামাযের ছয় তাকবীর। ইত্যাদি হল তাকবীরে জায়েদা। এসব তাকবীর হল ওয়াজিব।
আর নামাযের শুরুতে যে তাকবীর বলে নামাযে প্রবেশ করা হয়, সেটি হল তাকবীরে তাহরীমা। এটি ফরজ। আর এ তাকবীর আদায়ের স্থান হল দাঁড়িয়ে বলা। সুতরাং কোন ব্যক্তি সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে রুকুতে যেতে যেতে তাকবীর বলতে থাকে, তাহলে মূলত সেটি তাকবীরে তাহরীমা হচ্ছে না। তাকবীরে ইন্তিকালিয়া হয়ে যাচ্ছে। আর তাকবীরে তাহরীমা না হলে নামায হয় না। সে হিসেবে উক্ত ব্যক্তির নামায হবে না।
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا قَامَ يُصَلِّي تَطَوُّعًا قَالَ: «اللَّهِ أَكْبَرُ
হযরত মুহাম্মদ বিন মাসলামা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ যখনি নফল নামাযে দাঁড়াতেন তখনি তিনি আল্লাহু আকবার বলতেন। {সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৮৯৮, আলমুজামুল কাবীর-৮/২২৬, হাদীস নং-১৫৮৫৭}
এজন্য উচিত হল, আগে সোজা দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলার পর রুকুর তাকবীর বলে রুকুতে যাবে। যেতে যেতে বলবে না।

পাক-নাপাক সম্পর্কে কয়েকটি প্রশ্নোত্তর!

প্রশ্ন

জামা-কাপড়ে নাপাকি লাগলে তা পাক করার সুন্নত তরীকা কী?

অনেক সময় ছোট বাচ্চারা বিছানায় পেশাব করার কিছু সময় পর বিছানা ভেজা থাকা সত্যেও হাত লাগালে হাত ভিজেনা। এই অবস্থায় সেখানে জামা লাগলে কী জামা নাপাক হবে?
আর জামা নাপাক হওয়ার জন্যে কী নির্দিষ্ট পরিমানের বেশী নাপাকী লাগা শর্ত, নাকি সামান্য পরিমান নাপাকী লাগলেই জামা নাপাক হয়ে যাবে?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم
জামা কাপড়ে নাপাক লাগলে তা দূরিভূত করার দ্বারা উক্ত কাপড় পবিত্র হয়ে যায়। দূরিভূত করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যদি নাপাকটি শুকিয়ে যায়, এবং তা দেখা যায়, তাহলে তা রগরে একদম উঠিয়ে ফেললেই কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। যদি রগরে উঠানো না যায়, তাহলে উক্ত নাপাক দূর করার দ্বারা উক্ত কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কোন সংখ্যার শর্ত নেই। নাপাকটি দূরিভূত হয়ে যাওয়া শর্ত।
তবে যদি নাপাক দেখা না যায়, বরং তা কাপড়ের সাথে মিশে গিয়ে থাকে, কিংবা কোথায় লেগেছে তা জানা না যায়, তাহলে পুরো কাপড় ভাল করে তিনবার ধৌত করা এবং প্রতিবার ভাল করে নিংড়ানো দ্বারা কাপড়টি পবিত্র হয়ে যাবে।
وَإِزَالَتُهَا إنْ كَانَتْ مَرْئِيَّةً بِإِزَالَةِ عَيْنِهَا وَأَثَرِهَا إنْ كَانَتْ شَيْئًا يَزُولُ أَثَرُهُ وَلَا يُعْتَبَرُ فِيهِ الْعَدَدُ. كَذَا فِي الْمُحِيطِ فَلَوْ زَالَتْ عَيْنُهَا بِمَرَّةٍ اكْتَفَى بِهَا وَلَوْ لَمْ تَزُلْ بِثَلَاثَةٍ تُغْسَلُ إلَى أَنْ تَزُولَ، كَذَا فِي السِّرَاجِيَّةِ. . . . . وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ مَرْئِيَّةٍ يَغْسِلُهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ. كَذَا فِي الْمُحِيطِ وَيُشْتَرَطُ الْعَصْرُ فِي كُلِّ مَرَّةٍ فِيمَا يَنْعَصِرُ وَيُبَالِغُ فِي الْمَرَّةِ الثَّالِثَةِ حَتَّى لَوْ عَصَرَ بَعْدَهُ لَا يَسِيلُ مِنْهُ الْمَاءُ وَيُعْتَبَرُ فِي كُلِّ شَخْصٍ قُوَّتُهُ وَفِي غَيْرِ رِوَايَةِ الْأُصُولِ يَكْتَفِي بِالْعَصْرِ مَرَّةً وَهُوَ أَرْفَقُ. كَذَا فِي الْكَافِي وَفِي النَّوَازِلِ وَعَلَيْهِ الْفَتْوَى. كَذَا فِي التَّتَارْخَانِيَّة وَالْأَوَّلُ أَحْوَطُ. هَكَذَا فِي الْمُحِيطِ. (الفتاوى الهندية، كتاب الطهارة، الْبَابُ السَّابِعُ فِي النَّجَاسَةِ وَأَحْكَامِهَا وَفِيهِ ثَلَاثَةُ فُصُولٍ، الْفَصْلُ الْأَوَّلُ فِي تَطْهِيرِ الْأَنْجَاسِ-1/42)
কাপড়ে নাপাক লাগার পর যদি উক্ত নাপাক শুকিয়ে যায়, তাহলে উক্ত স্থানে হাত বা কাপড় লাগলে তা নাপাক হবে না। শুকানোর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, নাপাক লেগে শুকিয়ে যাওয়া কাপড় নিংড়ালে কোন কিছু বের হয় না। অর্থাৎ কোন কিছুতে তা লাগলে নাপাকের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয় না। তাহলে যে কাপড় শুকিয়ে যাওয়া নাপাকে লেগেছে সে কাপড় ও স্থান নাপাক হয় না। সুতরাং পেশাব শুকিয়ে গেলে উক্ত স্থানে হাত লাগার দ্বারা হাতে নাপাকীর চিহ্ন না দেখা যায়, তাহলে হাত বা কাপড় নাপাক হবে না।
وَإِذَا جَعَلَ السِّرْقِينَ فِي الطِّينِ فَطَيَّنَ بِهِ السَّقْفَ فَيَبِسَ فَوَضَعَ عَلَيْهِ مِنْدِيلٌ مَبْلُولٌ لَا يَتَنَجَّسُ (الفتاوى الهندية، كتاب الطهارة، الْفَصْلُ الثَّانِي فِي الْأَعْيَانِ النَّجِسَةِ-1/47، وكذا فى حلبى كبير-1/153)
যে নাপাক দেখা যায়, সে নাপাক এক দিরহাম পরিমাণ হলে কাপড় পাক থাকে, উক্ত কাপড় পরিধান করে নামায পড়া শুদ্ধ আছে। তবে যদি এক দিরহাম থেকে অধিক হয়, তাহলে উক্ত কাপড়সহ নামায পড়া শুদ্ধ হয় না।
عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : تعاد الصلاة من قدر الدرهم من الدم (سنن الدر قطنى، كتاب الصلاة، باب قدر النجاسة التي تبطل الصلاة، رقم الحديث-1)
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-এক দিরহাম পরিণাম রক্তের দরুন নামাযকে পুনরায় আদায় কর। {সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৩৮৯৬, জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-১০৭৮৩, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাকী, হাদীস নং-১৩২৩, আল জামেউল কাবীর, হাদীস নং-২৩৮}
এ হাদীসটি দুর্বল। কিন্তু যেহেতু এ বিষয়ে এ হাদীসটিই পাওয়া যায়, এর বিপরীত কোন হাদীস বর্ণিত নেই। তাই এর উপর আমল করা হয়। সেই সাথে এমন কম নাজাসাত থেকে সাধারণত বেঁচে থাকা কষ্ট সাধ্য ব্যাপার তাই এ সহ নামায জায়েজ হওয়ার বিষয়টি যুক্তিগ্রাহ্য বিষয়ও। এছাড়া সাহাবাদের থেকে বর্ণিত রয়েছে যে,
فلما ذكره صاحب الأسرار عن علي وبن مسعود أنهما قدرا النجاسة بالدرهم وكفى بهما حجة في الاقتداء وروي عن عمر أيضا أنه قدره بظفره (عمدة القارى شرح صحيح البخارى، كتاب الوضوء، باب غسل الدم، رقم الحديث-227،3/140)
হযরত আলী রাঃ এবং ইবনে মাসউদ রাঃ [কাপড়] নাপাক হওয়ার পরিমাণ নির্দিষ্ট করেছেন এক দিরহাম। আর আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ নির্ধারণ করেছেন নখ পরিমাণ। {উমদাতুল কারী-৩/১৪০, আদিল্লাতুল হানাফিয়্যাহ-১০১}
والله اعلم بالصواب

কদমবুচি করা কি জায়েজ?

উত্তর

দেখা-সাক্ষাৎ এবং বড়দের সম্মান করার সুন্নতি পদ্ধতি রাসূল সাঃ থেকে প্রমাণিত। তাই উক্ত পদ্ধতি রেখে কোন বিধর্মীর পদ্ধতি অবলম্বন করা জায়েজ নয়।

কারো সাথে দেখা হলে সালাম দেয়া। 
দীর্ঘদিন পর কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়ের সাথে দেখা হলে সালাম দেয়ার পর মুসাফাহা করা বা এবং সর্বোচ্চ কোলাকুলি করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
কদমবুচি করা প্রমাণিত নয়। বরং এটি হিন্দুয়ানী রুসুম। যা অবশ্যই পরিত্যাজ। কদমবুচি করার দ্বারা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে দুটি খারাবী লাযেম হয়। যথা-
১-গায়রুল্লাহের সামনে মাথাকে অবনত করা হয়। যা হারাম।
২-বিধর্মী তথা হিন্দুয়ানী রুসুম পালন করা হয়। বিধর্মীদের আদর্শ অনুসরণও হারাম।
عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا دَخَلْتُمْ بَيْتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهِ، وَإِذَا خَرَجْتُمْ فَأَوْدِعُوا أَهْلَهُ السَّلَامَ»
হযরত কাতাদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখন তোমাদের কেউ ঘরে প্রবেশ করে সে যেন উক্ত গৃহবাসীকে সালাম দেয়। আর গৃহ হতে বের হওয়ার সময় গৃহবাসীকে সালাম দিয়ে বিদায় গ্রহণ করবে। {জামে মামার বিন রাশেদ, হাদীস নং-১৯৪৫০, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৮৪৫৯, শরহুস সুন্নাহ লিলবাগাবী, হাদীস নং-৩৩২৮}
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا بُنَيَّ إِذَا دَخَلْتَ عَلَى أَهْلِكَ فَسَلِّمْ يَكُونُ بَرَكَةً عَلَيْكَ وَعَلَى أَهْلِ بَيْتِكَ.
হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ আমাদের লক্ষ্য করে বললেন, হে বৎস! তুমি গৃহে পরিবার-পরিজনের কাখে প্রবেশকালে সকলকে সালাম করবে। এতে তোমার এবং তোমার গৃহের সকলের জন্য কল্যাণ হবে। {সুনানে তিরমিজী, [বাশশার], হাদীস নং-২৬৯৮, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৫৯৯১}
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا، لاَ تَشَبَّهُوا بِاليَهُودِ وَلاَ بِالنَّصَارَى، فَإِنَّ تَسْلِيمَ اليَهُودِ الإِشَارَةُ بِالأَصَابِعِ، وَتَسْلِيمَ النَّصَارَى الإِشَارَةُ بِالأَكُفِّ.
হযরত আমর বিন শুয়াইব তার পিতার সূত্রে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছাড়া অন্য কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য রেখে চলে, যে আমাদের দলের নয়। তোমরা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য স্থাপন করো না। ইহুদীরা সালাম করে আঙ্গুলির ইশারা দ্বারা আর খৃষ্টানরা সালাম করে হাতের তালুর ইশারা দ্বারা। { সুনানে তিরমিজী, [বাশশার], হাদীস নং-২৬৯৫, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৮৫২০, সুনানে কুবরা লিননাসায়ী, হাদীস নং-১০১০০, শরহুস সুন্নাহ, হাদীস নং-৩৩০৮, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৭৩৮০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-৫০৩, মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-১১৯১}
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يَلْتَقِيَانِ، فَيُصَافِحَانِ إِلا غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَنْ يَتَفَرَّقَا»
হযরত বারা বিন আযেব রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখন দুজন মুসলিমের মাঝে পরস্পর সাক্ষাৎ হয়, তারপর তারা পরস্পর মুসাফাহা করে, তাহলে তারা পরস্পর থেকে পৃথক হওয়ার আগেই তাদের গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়। {শরহুস সুন্নাহ লিলবাগাবী, হাদীস নং-৩৩২৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীসি নং-১৮৫৪৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩৭০৩, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৫২১২, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৭২৭}
عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَدِمَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ الْمَدِينَةَ , وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِي , فَأَتَاهُ , فَقَرَعَ الْبَابَ , فَقَامَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُرْيَانًا , وَاللهِ مَا رَأَيْتُهُ عُرْيَانًا قَبْلَهُ , فَاعْتَنَقَهُ وَقَبَّلَهُ “
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত জায়েদ বিন হারেসা রাঃ মদীনায় এলেন। তখন রাসূল সাঃ আমার গৃহে ছিলেন। হযরত জায়েদ এসে রাসূল সাঃ এর দরজায় কড়া নাড়লেন। রাসূল সাঃ তখন বেরিয়ে গেলেন খালি গায়েই। আল্লাহর কসম আমি এর আগে কখনো রাসূল সাঃ কে খালি গায়ে দেখিনি। তারপর তিনি তার সাথে মুআনাকা করলেন এবং তাকে চুমু খেলেন। {তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-৬৯০৫, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৭৩২, শরহুস সুন্নাহ, হাদীস নং-৩৩২৭}
وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ ۚ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ [٤١:٣٧]
তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র তাঁরই এবাদত কর। {সূরা হা-মীম সাজদা-৩৭}
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ»
হযরত ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪০৩১, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৯৬৬, মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-৩৯০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১৮৬২, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৮৩২৭, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩৩০১৬}
والله اعلم بالصواب

ছেলে সুস্থ্য হলে আকিকা করবে বললে কি মান্নত হয়?

প্রশ্ন

কোন ব্যাক্তি মান্নত করলো যে । আমার ছেলে যদি সুস্থ হয়ে যায় তাহলে আকিকা করবো । এখন যদি মান্নত পুরা করার জন্য আকিকা করে , তাহলে আকিকার গোশত বাবা মা খেতে পারবে কি না ?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
একথা বলার দ্বারা মান্নতই হয়নি। যদি লোকটি একথা বলতো যে, যদি আমার সন্তান সুস্থ্য হয়ে যায়, তাহলে আমি আকিকা করে গোস্ত দান করে দেব। তাহলে মান্নত হতো।
যেহেতু এখানে আকিকার গোস্ত দান করে দেয়ার কথা উল্লেখই করেনি। তাই এটি মান্নত হয়নি। যেহেতু মান্নত হয়নি। তাই আকিকা করলে এর গোস্ত পিতা-মাতাসহ আত্মীয় স্বজনদের খেতে কোন সমস্যা নেই।
(وَلَوْ قَالَ إنْ بَرِئْت مِنْ مَرَضِي هَذَا ذَبَحْت شَاةً أَوْ عَلَيَّ شَاةٌ أَذْبَحُهَا فَبَرِئَ لَا يَلْزَمُهُ شَيْءٌ) لِأَنَّ الذَّبْحَ لَيْسَ مِنْ جِنْسِهِ فَرْضٌ بَلْ وَاجِبٌ كَالْأُضْحِيَّةِ (فَلَا يَصِحُّ) (إلَّا إذَا زَادَ وَأَتَصَدَّقُ بِلَحْمِهَا فَيَلْزَمُهُ) (رد المحتار، كتاب الأيمان، مطلب فى احكام النذر-5/523، البحر الرائق، كتاب الأيمان، قبيل باب اليمين فى الدخول، مطبوعة الماجدية-4/296، فتح القدير-5/92)
والله اعلم بالصواب

ইসলামে কেন দাবা খেলার অনুমতি নাই ? রহস্যটা কোথায় ?

মুসাদ্দাদ (র)…. বুরায়দাহ (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ নবী করীম (সা) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শতরঞ্চ বা দাবা খেলে, সে যেন তার হাতকে শূকরের গোশত ও রক্তের মধ্যে প্রবেশ করায় । [প্রমান দেখুনঃ সহীহ মুসলিম শরীফ , ৫ম খন্ড , ৪২ তম পর্ব , ১ম অধ্যায় , হাদীস নং- ১০/২২৬০ (ফুয়াদ আল বাকীর মূল আরবী নম্বর) , ৫৬৯৯ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) , ৫৭৩১ (ইসলামিক সেন্টার) , ৫৭৮৯ (হাদীস একাডেমী) / সুনানে আবু দাউদ , অধ্যায় নং- ৪৩ , অনুচ্ছেদ নং- ৬৪ , হাদীস নং- ৪৯৩৯ / সুনানে ইবনু মাজাহ , হাদীস নং- ৩৭৬৩ / মুসনাদে আহমদ , হাদীস নং- ২২৪৭০, ২২৫১৬, ২২৫৪৭ (মূল আরবী নম্বর) / ইমাম বোখারীর আল আদাবুল মুফরাদ , অনুচ্ছেদ নং- ৬১৫ , ৬১৬ , হাদীস নং- ১২৮৩ (৪৪২ পৃষ্ঠা , আহসান পাবলিকেশন্স) , ১২৮৯ (৫৫৮ পৃষ্ঠা , ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবু মুসা আল আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি দাবা ( সতরঞ্জি) খেললো সে আল্লাহ্ ও তার রাসূলের নাফরমানী করলো। [প্রমান দেখুনঃ সুনানে আবু দাউদ , অধ্যায় নং- ৪৩ , অনুচ্ছেদ নং- ৬৪ , হাদীস নং- ৪৯৩৮ / মুয়াত্তা মালিক , হাদীস নং- ১৭৮৬ (মূল আরবী নম্বর) / সুনানে ইবনু মাজাহ , হাদীস নং- ৩৭৬২ / ইমাম বোখারীর আল আদাবুল মুফরাদ , অনুচ্ছেদ নং- ৬১৫ , ৬১৬ , হাদীস নং- ১২৮১ (৪৪২ পৃষ্ঠা , আহসান পাবলিকেশন্স) , ১২৮৬ (৫৫৮ পৃষ্ঠা , ইসলামিক ফাউন্ডেশন) / সুনানে আদ দারেমী / মুসনাদে আহমদ , হাদীস নং- ১৯০২৭, ১৯০৫৭, ১৯০৮৩ (মূল আরবী নম্বর)।] তাহক্বীক ও তাখরীজঃ মাহবুব হোসেন অনিক ; দাঈ , ইসলামি গবেষক ও চেয়ারম্যান – ইসলামিক রিসার্চ লাইব্রেরী (আই.আর.এল) , নারায়ণগঞ্জ।