কমান্ডার হত্যার দায় সিরীয় বিদ্রোহীদের: হিজবুল্লাহ

লেবাননের সশস্ত্র শিয়া রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহর সামরিক শাখার শীর্ষ কমান্ডার মুস্তাফা বদরেদ্দিন সিরীয় বিদ্রোহীদের গোলাবর্ষণে দামেস্ক বিমানবন্দরের কাছে নিহত হয়েছেন।
শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। 
শুক্রবার বাদরেদ্দিনের মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করে হিজবুল্লাহ। ওইদিনই গোষ্ঠীটির মূলঘাঁটি দক্ষিণ বৈরুতে সামরিক কায়দায় বদরেদ্দিনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
গোষ্ঠীটির বিবৃতিতে বলা হয়, “তদন্তে দেখা গেছে বিস্ফোরণটি, যা আমাদের দামেস্ক বিমানবন্দরের কাছে একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ঘটানো হয়েছিল এবং যার কারণে কমান্ডার মুস্তাফা বদরেদ্দিন শহীদ হয়েছেন, ওই এলাকার তাকফিরি গোষ্ঠীর গোলাবর্ষণের কারণে ঘটেছে।”
‘তাকফিরি’ বলতে হিজবুল্লাহ কট্টরপন্থি, সশস্ত্র সুন্নি ইসলামপন্থি গোষ্ঠীকে বুঝিয়ে থাকে।
“তদন্তের ফলাফল অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং তাদের পরাজিত করতে আমাদের প্রতিজ্ঞাকে আরো দৃঢ় করে তুলবে,” বিবৃতিতে বলেছে হিজবুল্লাহ।
তবে হামলাটি কখন ঘটেছে এবং বদরেদ্দিন কখন নিহত হয়েছেন বিবৃতিতে তা জানানো হয়নি।
শুক্রবার বদরেদ্দিনের মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, বদরেদ্দিন সিরিয়া থেকে জয় নিয়ে অথবা শহীদ হয়ে ফেরার কথা বলেছিলেন।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষ হয়ে মুসলিম সুন্নি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে হিজবুল্লাহর গেরিলারা। সুন্নি মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল কায়েদার অনুমোদিত নুসরা ফ্রন্ট রয়েছে।
১৯৮৩ সালে কুয়েতে বোমা হামলা, ইসরায়েল, লেবাননে ও বিদেশি বিভিন্ন রাষ্ট্রে চালানো হিজবুল্লাহর বিভিন্ন সামরিক অভিযানের প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং ২০০৫ সালে লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান সুন্নি নেতা রফিক হারিরির হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন কমান্ডার বদরেদ্দিন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক দূরভিসন্ধিমূলক বলে আখ্যায়িত করেছে হিজবুল্লাহ।
Al jazeera English.

Share this

Related Posts

Previous
Next Post »