সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে গ্রেফতার হওয়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী রিমান্ডে গোয়েন্দাদের চমকপ্রদ তথ্য দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির মোসাদ-কানেকশনের পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ইতিমধ্যে সরকারের হাতে পৌঁছেছে। কিন্তু আসলাম চৌধুরী এখনও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের কথাটি স্বীকার করেননি।
সূত্র মতে, গোয়েন্দারা এটা নিশ্চিত হতে পেরেছেন, ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সদস্য মেনদি এন সাফাদি ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব আসলাম চৌধুরীর দিল্লী বৈঠকের নেপথ্যে রয়েছে ‘বিএনপিরই হাইকমান্ড’। তবে মেনদি এন সাফাদি লন্ডনে ‘মিস্টার রহমান’ নামে যার সঙ্গে বৈঠকের কথা বলেছেন তিনিই বিএনপির হাইকমান্ড কিনা- সে বিষয়ে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কিন্তু আসলাম চৌধুরী এই ব্যাপারে নীরব রয়েছেন।
অবশ্য আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ইতিমধ্যে একটি জাতীয় দৈনিককে বলেছেন, ‘বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ইসরাইলের নেতা ও মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন।’ আইনমন্ত্রীর ভাষায়, ‘আমাদের কাছে খবর আছে আসলাম চৌধুরী তারেক রহমানের লোক। তিনি তার লোক হিসেবে বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের জন্য বিশ্বের অন্য দেশ ও ওই সব দেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। আমরা এটাও জেনেছি তিনি তারেক রহমানের লোক হওয়ার কারণে তাকে বিশেষভাবে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, দিল্লিতে বাংলাদেশ সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের ছঁক কষা হয়েছে লন্ডনে এবং লন্ডনে অবস্থানরত মি. রহমানই নেপথ্যের প্রধান হোতা।’
এদিকে বিএনপির একটি সূত্র বলেছেন, মোসাদ-কানেকশন ইস্যুতে ‘মূল হোতা’ হিসেবে তারেক রহমানের নাম চলে আসতে পারে, এমন আশঙ্কাই করছে বিএনপি। আসলে বিএনপির জন্য এখন বেশ করুণাই হয়। কারণ দলের একজন যুগ্ম মহাসচিব মোসাদ-কানেকশনের অভিযোগে রিমান্ডে রয়েছে, অথচ দলটি উচ্চবাচ্যও করতে পারছে না।’
গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়ে আছে।
জানা গেছে, ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে আসলাম চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আছে, তবে ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেননি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলের নেত্রী থাকার সময়ে তাকে হত্যা চেষ্টার ষড়যন্ত্র, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে জড়িত থাকার বিষয়গুলোও এখন গোয়েন্দা তদন্তে সামনে চলে এসেছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কারণেই সম্প্রতি বিএনপির যুগ্মমহাসচিব পদটি পেয়েছেন আসলাম চৌধুরী। আর তিনি ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে অনেক টাকা বিএনপি ও তারেক রহমানের কোষাগারে জমা দিয়েছেন।
গোয়েন্দাদের জেরার মুখে আসলাম চৌধুরী বলেছেন, তিনি বাহকমাত্র। বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের আরও অনেক নেতা এ বিষয়ে ভাল জানেন। মেনদির সঙ্গে যোগাযোগে এক সাংবাদিক ও এক যুবদল নেতার ভূমিকা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন আসলাম চৌধুরী। তবে তিনি এখনও এটা স্বীকার করেননি, মেনদি এন সাফাদির বর্ণিত ‘মিস্টার রহমান’ তারেক রহমানই কিনা।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে গ্রেফতার হন বিএনপির যুগ্মমহাসচিব আসলাম চৌধুরী। তার এক সহকারী ও চালককেও আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দফতরে আনার পর ৭ দিনের রিমান্ডে এনে গোয়েন্দা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আসলাম চৌধুরীকে। দেশের বাইরে অন্য কোন রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সরকার উৎখাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। গোয়েন্দাদের দাবি- মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের খবর আসার পর থেকে বিএনপির এই নেতা নজরদারিতে ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার পর তিনি গা ঢাকা দেন। তবে তার গতিবিধি সবসময় গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল।
সূত্র জানায়, খুব অল্প সময়ে আসলাম চৌধুরী বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে উঠে আসেন। এর আগে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে হটিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার পর প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন আসলাম চৌধুরী। এর পেছনের বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানেরই আশীর্বাদ রয়েছে। সূত্র : বিবার্তা
