বর্তমান যুব সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহ্ মাতুল্লাহ।
আশাকরি আল্লাহর অসিম কৃপায় সকলেই ভালো আছেন ভালো থাকবেন এই  প্রত্যাশায়।
গত পর্রবে আমার বিষয় ছিলো
বর্তমান বাংলাদেশ ও তথাকথিত ভারতীয় প্রদর্শন।
হয়তো আপনারা ইতোপূর্বে এড্রেসবারে দেখেছেন আমাদের সম্পাদকীয় পাতার নাম দেওয়া হয়েছে  say to road অর্থাৎ রাস্তাথেকে বলছি।

আমার প্রিয় পত্রিকা হলো নয়া দিগন্ত।
আর বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সাংবাদিক  আবুল কালাম আজাদ রচিত নয়াদিগন্তের  একটি বিশেষ কলামের নাম হলো রাস্তা থেকে বলছি।

তার লেখাগুলি আমার এতোই ভালো লেগেছে যার কারণে তার প্রতি ভালোবাসায় আমার এই লেখা।
আমার সারাটা জীবন লেখলেও তার মত এমন বড়  হতে পারবোনা।

তার পরেও চেষ্টা করতে বৃথা কোথায়?
প্রায় বছর খানেক হয় তাঁর আর কোন লেখা পাচ্ছিনা।
যদি বর্তমানে সে ওফাত গ্রহণ করে থাকে তাহলে  আল্লাহ্‌ তায়ালা তাকে জান্নাত এনায়েত করুন (আমিন)।
আর আপনারা যদি কেউ জেনেশুনে থাকেন,
তাহলে জানালে উপকৃত হবো।
বলতে চাচ্ছিলাম,
বর্তমান যুব সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
কথায় আছে শিক্ষাই  জাতীর মেরুদণ্ড।
আসলে কথাটাকি এইভাবে হবে?
নাকি কথাটি হবে শুশিক্ষাই জাতীর মেরুদণ্ড।
যা হোক আমরা একটি ধরে নিবো।
একটি যুবো সমাজের পেছনে যে সকল কারণ থাকতে পারে আমরা এক নজরে তা দেখেনেই।
কঃ পারিবারিক।
খঃ সামাজিক।
গঃ প্রাতিষ্ঠানিক।
ঘঃ শারিরিক।
আপাতত এই চার (৪)টি বিষয়ই ধরা যেতে পারে।
কঃ পারিবারিক।
শিশুর শিক্ষা বিকাশে পরিবারের গুরুত্ব অপরিসিম।
কিছুদিন আগেই হয়তো বছর ১০খানেক হবে, সকালে ঘুম থেকে জাগিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে আম্মু মসজিদে পাঠিয়ে দিতো।
নামাজ আদায় করেই মক্তবে ছবকের জন্য বসে গেলাম।
কিন্তু আস্তে ধিরে তা পরিবর্তিত  হতে লাগলো।
এখন ছেলেমেয়েদেরকে সকাল সকাল ঘুম থেকে আর জাগানো হয়না।
আর যদিও জাগে হয়তো স্কুল মাষ্টার নয়তো ডান্স মাষ্টারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
যার কারনে শিশুর মস্তিষ্ক কাজ করে ইসলামের বাহিরে।
আর যদিও কিছু পরিবারে আরবি তথা কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয় তাও আবার গৃহশিক্ষক বাসায় এনে।
এতেও শিশুর শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাবোদ কমে যায়।
তাঁর কাছে জাগিত হয় মাসে ৫০০টাকায় হুজুরের অনভাব।
এছাড়াও আমরা ৩০দিন ১৫জন বখাটে ছেলেদের আচরণের উপর পরিক্ষা করে দেখেছি যে, শিশুর প্রতি অমানুষিক ব্যবহার ( যেমন, সিগারেট আনানো, ধমক দিয়ে কথা বলা, কথায় কথায় গালি দেওয়া ইত্যাদি ) শিশুর মস্তিষ্ককের উপর কুপ্রভাব ফেলার সম্ভাবনা ৭০% এ নিয়ে আসে।
যার কারনে বড় হয়ে সে হয় হিংস্র ও বখাটে।
পিতামার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমার অন্যতম কারন এটি।
খঃ সামাজিক।
সমাজের সাথেও পরিবারের ভূমিকা অপরিসিম।
সন্তানকে শিশুকাল থেকেই ভালোমন্দের শিক্ষা দিতে হবে।
সমাজে চলতে গেলে শিশুদের অবশ্যই বন্ধু-বান্ধব থাকবেই।
এমনকি বন্ধু নির্বাচনেও পরিবার তাকে সাহায্য করবে।
কারণ একজন অসৎ বন্ধুর কারনে আপনার সন্তান হতে পারে শির্ষ একজন ক্যাডার, হতে পারে উশৃংক্ষল দলের নেতা।
তবে রাখববেন,
এই বয়সটাই শিশুর শাসনের সময়।
তাই বলে তার বন্ধু-বান্ধবের সামনে তাকে শাসন করবেন্না!
এতে উভয় পক্ষের কাছে ঘৃণিত হতে পারেন।
গঃ প্রাতিষ্ঠানিক।
শিশুর ভবিষ্যৎ বিকাশে শিক্ষা অপরিহার্য।
বর্তমানে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতে শুশিক্ষা নেই বললেই চলে।
শুশিক্ষার জন্য প্রয়োজন ছেলে মেয়েদের ভিন্ন ভিন্ন কক্ষ।
কিন্তু তা নেই।
যার কারনে প্রেম বুকামিতেও ধংশ হয়ে যায় সুন্দর আকাঙ্ক্ষার জীবন।
তা ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে রয়েছে ভুল পথ।
মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিকে অধ্যয়ন করে এমন একজন ছাত্র খুঁজে পাওয়া মুসকিল হবে যে ছাত্র রাজনীতি করেনা।
(তাই বলে আমি ছাত্র রাজনীতির বিপক্ষে নয়।)
যারা পড়া লেখা করেছেন তাঁরা কি কেউ বলতে পারবেন,
উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত রাজনীতি বিষয়ক কোন বিষয় আছে?  যাতে বলা আছে কিভাবে রাজনীতি করবেন?
কার জন্য করবেন?
কখন করবে?
রাজনীতির মাঠটি কেমন হওয়া চাই?
যোগ্য পার্থী কিভাবে হবেন?
ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়।
বিশেষ করে যারা রাজনীতি করে তাদের ৯০ ভাগই বলতে পারবেনা রাজনীতির র এর অর্থ কী?
এছাড়া বিদ্যালয় বিহীন শিক্ষা ব্যাবস্থাও অন্যতম কারন,
যেমন,
ল্যাপ্টপ উপকরনঃ- এতে করে বিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীর আকর্শন কমে যাবে।
যার কারনে হারাতে হবে শিক্ষকের না বলা গুনীজনদের অজশ্র উদাহরণ।
সৃজনশীল শিক্ষা ব্যাবস্থাঃ- বিদ্যা পাঠ করবে বিদ্যালয়ে অথচ প্রশ্ন হবে বাহির থেকে।
প্রশ্ন হবে নমুনা মুলক।
যেখানে বলা থাকবে  উল্লেখিত সারাংশটি  কোন প্রবন্ধকের সাথে মিল রয়েছে।
অথবা বলা থাকবে  উল্লেখিত সারাংশটি রবি ঠাকুরের কোন প্রবন্ধরের অন্তর্গত?
অথচ যেখানে  শিক্ষার্থীর নতুন করে বানিয়ে বানিয়ে বাজে বকুনি ছাড়া আর কিছুই নয়।
অবস্থা এমনই হচ্ছে ; জাতী  তাঁর জাতীর ইতিহাস ভুলে যাচ্ছে।
ধাবিত হচ্ছে বিদ্যালয় বিহীন বিদ্যাতে।
আসলে সৃজনশীল পড়ালেখার নামে  এই কু-বুদ্ধি যার মাথায় এসেছে, সে বিরাট বড় চক্রাকারের আমির।
আসলে জাতী ধংশের এ এক নীল নকশা
ঘঃ শারিরিক।  আমাদের দেশে অনেক গ্রাম্য পরিবার আছে যারা কমপক্ষে ১০/১২টা পুত্র সন্তান কামনা করে।
যাদের শ্লোগান হচ্ছে, মুখ দিছে যে আহারও দিবে সে।
কিন্তু তারা চিন্তা করেনা,  ভাত আর তরকারিই শুধু আহার নয়।
চাই পুষ্টি সম্মত খাবার।
কারন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের অভাবে নানা ধরনের রোহ হয়।
এতে শিশু অকর্মঠ হয়ে পরায় বেছে নেয় ভিক্ষার মত ণোংর কাজে।
জরিয়ে পরে মাদক চালানের জন্য মাদক ব্যাবসায়ীদের সাথে।
পরিবারকে যদি তার অকর্মা সন্তান আয় করে আর মায়ের হাতে টাকা দিয়ে বলে আমি ওমুক কাজ করে আয় কতেছি।
হায় আফসোস,  একটি বারের জন্যও আপনার সন্তানের গতিবেগ চিন্তা করলেন্না।
যা হোক বলতে মনে অনেক কিছুই চায়, কিন্তু লিখা আকাশ সমান হলে আপনারা আর পড়বেন্না।
তাই
পরিশেষে বলবো,
প্রতিটা ক্ষেত্রেই পরিবারের প্রধান্য বেশি।
আমি মাদ্রাসার কথা বলবোনা।
শুশিক্ষার জন্য আপনার বিবেক যেখানে কাজ করে সেখানে সন্তানকে শিক্ষা দিন।
কারন আপনার বিবেক হচ্ছে একটি দাবার গুটি।
পরিচালনায় একটু ভুল করেছেনতো শাড়াট জীবন আপনাকে এই অপমানের বোঝা বহন করতে হবে।
যার কারনে আপনার সন্তান হয় গাজা খুর,
মাস্তান, সেরা বখাটে।
তাই আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে এমন ভাবে শিক্ষা দিতে হবে যাতে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ধুলিয়ে না যায়।
একটু গভীর ভাবে চিন্তা করুন,
আপনি এখন কোথায় আছেন?
আল্লাহ্  হাফেজ।
আবার কথা হবে অন্য কোনদিন অন্য কোন বিষয় নিয়ে।
আমাদের অন্যান্য টপিক গুলি দেখুন।
আর অনেক কিছু শিখে নিন।
যদিও আপনি শিক্ষক তার পরেও  আমি  সবার সেরা ছাত্র।

Share this

Related Posts

Previous
Next Post »